আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী আখ্যা কঙ্গনার, দেখছেন অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১৫

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউত। আন্দোলনকারী ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের ‘দেশবিরোধী শক্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভের আড়ালে ভারতকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন কঙ্গনা। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন এসব শক্তিকে প্রকাশ্যে চিহ্নিত করছে। পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তাদের ধরে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে আন্দোলন মোকাবিলার ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের দুর্ভোগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন কঙ্গনা। তার ভাষ্য, দেশকে সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন শক্তি কাজ করছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে কোনো সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

লখনৌ পৌঁছে অযোধ্যায় যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। কঙ্গনা জানান, রামলালার দর্শন ও প্রার্থনার জন্য অযোধ্যার রামমন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি হিমাচল প্রদেশের মান্ডি লোকসভা আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য।

এদিকে, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, এই প্রক্রিয়ায় অনেক ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছিল সিজেপি। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই দলটির শীর্ষ নেতাদের আটক করে পুলিশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন দিল্লিজুড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়। অন্য একটি হিসাবে আটকের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। পরে আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষার্থী, আইনজীবী ও রাজনীতিকদের পাশাপাশি চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ইত্তেফাক/এবিএস