মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা

বিটিআরসি কর্মকর্তার জবানবন্দিতে ইন্টারনেট বন্ধের নেপথ্য কাহিনী

 

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:০৯

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ বা সীমিত করার নির্দেশনা এসেছিল তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের কাছ থেকে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) উপপরিচালক মাহদী আহমদ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় রোববার (১১ অক্টোবর) সাক্ষ্য দেন তিনি। সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন। পলক এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

জবানবন্দিতে মাহদী আহমদ জানান, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার পর বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজার রহমান তাকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলক বিটিআরসির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদকে পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ বা সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। পরদিন সকালে সাময়িকভাবে নেটওয়ার্ক চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর ১৬ জুলাই সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশনা আসে বলে জানান মাহদী আহমদ।

তিনি বলেন, ওই দিন সন্ধ্যায় বিটিআরসিতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। এতে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ওই দিন নেটওয়ার্ক বন্ধের বিষয়ে নথিতে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন নেওয়া হয়।

সারাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে জবানবন্দিতে মাহদী আহমদ বলেন, এ সংক্রান্ত নির্দেশনার বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত একটি সভার মাধ্যমে মোবাইল ইন্টারনেট চালুর নির্দেশনার বিষয়ে তিনি জানেন।

ওই সভায় পলকের সভাপতিত্বে চারটি মোবাইল অপারেটরের থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান।

একই সভায় বিটিআরসিকে ফেসবুক, টিকটক, আকামাই ও বাইসানের ক্যাশ সার্ভার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ৩১ জুলাই পলক এসব ক্যাশ সার্ভার আবার চালুর নির্দেশ দেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন মাহদী আহমদ।

সারাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে এনটিএমসির নির্দেশনার প্রসঙ্গে তিনি আরও স্পষ্ট করেন, এ ধরনের বক্তব্য তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করছেন না। সারাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করার বিষয়ে তার জানা নেই; তবে চালুর বিষয়ে তিনি জানেন। ২৮ জুলাইয়ের সভার সূত্রেই এ তথ্য তার জানা বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
ইত্তেফাক/এসজে