কুষ্টিয়া সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে নতুন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে আয়োজিত মিছিলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হন।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ক্যাম্পাসের হোস্টেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে কলেজ প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে বিরোধের অবসান ঘটে।
শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম উপলক্ষে গত তিন দিন ধরে ক্যাম্পাসে হেল্পডেস্ক পরিচালনা করে আসছিল ছাত্রদল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ নতুন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে মিছিলের আয়োজন করে সংগঠনটি। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিছিলে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতিতে গড়ায়। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে কুষ্টিয়া সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মারুফ হোসেন পিয়াস বলেন, ‘নতুন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে মিছিলের আয়োজন করা হয়। এতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি হয়। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বিশৃঙ্খলার মধ্যে এক শিক্ষার্থী চড়-থাপ্পড়ের শিকার হয়েছেন বলে শুনেছি। পরে কলেজ প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।’
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি জুবায়ের আহমেদ বলেন, ‘একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল। পড়াশোনার চাপের কারণে সিনিয়ররা জুনিয়রদের কর্মসূচিতে যেতে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। সেই সূত্র ধরে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আহত দুজনই সাধারণ শিক্ষার্থী। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় বসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।’
ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ রুহুল আমিন বলেন, ‘ভর্তির শেষ দিন ও অভিভাবক দিবসের কার্যক্রম শেষে হোস্টেল এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। আমরা এটিকে রাজনৈতিক সংঘাত হিসেবে না দেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি হিসেবেই দেখছি।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ ঘটনার সূত্রপাত। এটি বড় কোনো রাজনৈতিক সংঘাত নয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে এবং বর্তমানে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে।
