পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রাদেশিক সভাপতি জুনাঈদ আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি। এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের হাতে গড়া এই রাজনৈতিক দল।
জিও নিউজের প্রতিবেদন অনযায়ী, পিটিআইয়ের মুখপাত্র শেখ ওয়াকাস আকরাম বলেছেন, এই ‘গ্রেপ্তারের’ মূল লক্ষ্য হলো প্রদেশের নির্বাচিত নেতৃত্বকে দুর্বল করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ও জুনাঈদ আকবরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক রূপ উন্মোচন করেছে। নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়নি; বরং এর উদ্দেশ্য হলো পিটিআইকে দুর্বল করা, খাইবার পাখতুনখোয়ার নির্বাচিত সরকারকে অকার্যকর করা এবং এ অঞ্চলের জনগণের গণতান্ত্রিক রায়কে অবজ্ঞা করা।’
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে বিভিন্ন মামলায় পরোয়ানাভুক্ত কিছু ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
জিও নিউজের ‘জিও পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে কোনও মামলায় পরোয়ানা নেই, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’
ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বলেন, ‘তাদের কয়েকজনকে সতর্কতামূলকভাবে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ফৌজদারি মামলায় পরোয়ানাভুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং বাকিদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হবে।’ এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেন, ‘আমরা কাউকে গ্রেপ্তার করলে তা ঘোষণা করব। আমাদের লুকানোর কিছু নেই।’
অন্যদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির তীব্র নিন্দা জানিয়ে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর আলি খান এই পদক্ষেপকে একটি ‘মারাত্মক রাজনৈতিক ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেল সরকার। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি মন্ত্রিসভার এই সুপারিশ অনুমোদন করেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সন্ত্রাস দমনে প্রাদেশিক সরকারের ব্যর্থতার’ অভিযোগকে এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গোহর সতর্ক করে বলেন, ফেডারেল সরকারের এই সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনকে দুর্বল করে দেবে।
গোহর জানান, তাদের দল এই সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে নিন্দা ও সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছে। এটিকে একটি অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে যা জনগণ কখনো মেনে নেবে না। খাইবার পাখতুনখাওয়ার জনগণের তাদের নির্বাচনী ম্যান্ডেটের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার রয়েছে। সেই ম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা করে, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনকে দুর্বল করে কিংবা কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সংঘাত তৈরি করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
