ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে তেহরান সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন আরাগচি।
সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরান-সমর্থিত হুতিদের সৌদি বিমানবন্দরে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) টেলিগ্রামে এক বার্তায় আরাগচি বলেন, রাজনৈতিক সমাধানের পথ বাদ দিয়ে সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলোর কোনো সামরিক সমাধান নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইরান প্রস্তুত বলেও জানান আরাগচি।
এর আগে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেন নিয়ে ওয়াশিংটনের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার কথা বলেছেন। ইরানের ওপর আবার হামলার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে জানান তিনি। যদিও বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা হবে না। নতুন বক্তব্যে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত মিলছে।
দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য সত্ত্বেও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু রয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে রাজি হয়। এর আগে সাত বছর ধরে তাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরানের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই যুদ্ধের পর ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ইরানকে গত মার্চে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান সতর্ক করে বলেছিলেন, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার বিষয়টি আর অনির্দিষ্টকাল সহ্য করা হবে না। তিনি তেহরানকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সূত্র: আলজাজিরা
