চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বহিরাগতদের নিয়ে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিনটি সংগঠন। পূর্বঘোষিত দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব দায়িত্বসহ পূর্ণ কর্মবিরতিও অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভা শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, নবনিযুক্ত উপাচার্যের বহিরাগতদের সহায়তায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়টি তিনটি সংগঠন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। এ ঘটনায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার উপাচার্যকে বহন করতে হবে।
এর আগে, সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ভবনটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন। বর্তমানে উপাচার্য শরীফুল আলম অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাত থেকেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু হয়। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
