এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। তবে আগামী বছর থেকে ফল প্রকাশের তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় পরীক্ষার পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র তৈরি, সময়সূচি নির্ধারণ এবং উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন আগামী বছর থেকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, পরীক্ষার তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে এ সুযোগ তৈরি করা হবে।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এ জন্য ভাষা শিক্ষা ও সময়োপযোগী কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পূরক পরীক্ষা চালুর নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। পরীক্ষা আয়োজনের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির বিষয়গুলো সমন্বয় করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় এ বছর পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ছয় লাখ ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, তাদের পরবর্তী বছর আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে অথবা ইচ্ছা করলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন পদ্ধতি চালু হলে শিক্ষার্থীরা শুধু যেসব বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, সেগুলোতেই সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
গত ১০ আগস্ট চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
ফল পুনর্নিরীক্ষণের পর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে তিন হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। একই প্রক্রিয়ায় প্রথমবার অকৃতকার্য হওয়া চার হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়েছিল দুই হাজার ২০৭ জন।
