সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হলেও চারজন শঙ্কামুক্ত; তবে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া একজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে পাঠানো সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দূতাবাসের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বেলা আনুমানিক সোয়া তিনটার দিকে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়। এতে বিভিন্ন দেশের মোট ১৩ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। নিহতদের তালিকায় দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে আহত ২৭ জন বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবপ্রবাসী কর্মী এবং বাকি ১৬ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন।
আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার বিষয়ে দূতাবাস জানিয়েছে, প্রাথমিক চিকিৎসার পর ১২ জন ইতোমধ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে ১৫ জন রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর আহত পাঁচজনের মধ্যে চারজন বর্তমানে বিপদমুক্ত হলেও নওগাঁর বাসিন্দা সাফফাত রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে; তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। আহত সব বাংলাদেশির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং শারীরিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
এদিকে এই হামলার ঘটনায় ফ্লাইট চলাচল স্থগিত হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ থেকে আসা এবং বাংলাদেশগামী পাঁচ শতাধিক যাত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে আটকা পড়েন। তাদের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও দূতাবাস। এর মধ্যে ওমরাহ পালনে আগতদের মধ্য থেকে ১৭ জনকে স্থানীয় ম্যারিয়ট হোটেল, ২৫ জনকে র্যাডিসন ব্লু হোটেল এবং ৪০ জনকে রিয়াদের প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ছাড়া রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের বাতিল হওয়া ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দেশে ফেরাতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সমন্বয়ে তাদের দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে সেখান থেকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
