আড়াইহাজারে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম, নেই চিকিৎসক

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় সরকারি চিকিৎসাসেবা নেই বললেই চলে। স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অধীনে আরো ৫টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও সেখানে চিকিৎসক না থাকায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। ৫টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৪টিতে চিকিৎসক পদায়িত থাকলেও ঐসব চিকিৎসকরা তাদের সুবিধাজনক স্থানে সংযুক্তি বা ডেপুটেশনে আছেন। আর অপর একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রর চিকিৎসক বিনা ছুটিতেই গত ৪ বছর যাবৎ অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে কোনো চিকিৎসা পাচ্ছে না উপজেলাবাসী। কোনো কোনো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা দিচ্ছেন ফার্মাসিস্ট। চিকিৎসকসহ অন্যসব পদ শূন্য থাকায় কালাপাহাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিই বন্ধ রয়েছে।

পাঁচটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রর মধ্যে সাতগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়ন ৪ বছর যাবৎ বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঐ চিকিৎসক বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

বিষয়টি জানিয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েও কোনো ফল পাননি।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়িত অনেক চিকিৎসকও সপ্তাহে ২-৩ দিনের বেশি আসেন না। ফলে পুরো উপজেলাবাসী কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সে শূন্যস্থান দখল করে নিচ্ছে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

সাতগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র : সাতগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়ন ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল যোগদান করলেও ২০২২ সাল থেকে ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বর্তমানে একজন মিডওয়াইফ ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির কার্যক্রম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।

ব্রাহ্মন্দী উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র : ব্রাহ্মন্দী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুস সালাম ২০১৭ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে সংযুক্তি রয়েছেন। এছাড়া এখানকার উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকেও চৈতারকান্দা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বর্তমানে এক জন ফার্মাসিস্ট ও এক জন মিডওয়াইফ দিয়ে চলছে। এতে রোগীরা ভালো চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

হাইজাদী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র : হাইজাদী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার মেহেদি হাসান শিমুলকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এখানে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও অফিস সহায়ক পদ শূন্য রয়েছে। ফলে শুধু একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে পুরো কেন্দ্রটি চালানো হচ্ছে।

চৈতনকান্দা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র : চৈতনকান্দা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা সাইদুল ইসলামকে ঢাকার কুর্মিটোলা মেডিকেল হাসপাতালে সংযুক্তি করা হয়েছে। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ক না থাকায় শুধু একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে কোনো রকমে স্বাস্থ্যসেবা চালানো হচ্ছে।

কালাপাহাড়িয়াউপস্বাস্থ্য কেন্দ্র : কালাপাহাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারুক ইসলাম মুগদা হাসপাতালে সংযুক্তিতে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। এই কেন্দ্রের এক জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আট বছর ধরে ঢাকায় সংযুক্তিতে রয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়িত অনেক ডাক্তার সপ্তাহে দুই-তিন দিনের বেশি আসেন না। চিকিৎসকরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে সপ্তাহে দুই-তিন দিন হাসপাতালে আসেন। ফলে পুরো উপজেলার চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফ ভূঁইয়া জানান, অধিদপ্তরের নির্দেশে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা উপজেলায় সংযুক্ত আছেন। আর দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকা চিকিৎসকের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি ঝুলে আছে।

ইত্তেফাক/এনএন