গাজায় বেসামরিক ভবনে ড্রোন হামলার অবাধ অনুমোদন ইসরায়েলের

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬

গাজা ভূখণ্ডে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের এলাকা ছাড়ার পূর্ব কোনো নোটিশ বা সতর্কবার্তা দেওয়া ছাড়াই বেসামরিক বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে ভারী বোমা ফেলার নির্দেশ পেয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন চারজন ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সদস্য। সোমবার (১৩ অক্টোবর) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সামরিক গোয়েন্দা সদস্যদের প্রদত্ত জবানবন্দিতে দেখা গেছে, গাজায় নির্বিচারে হামলা চালানো এবং সংঘাত চলাকালে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর হার বা পারপার্শ্বিক ক্ষতি বিবেচনা করার নীতিমালায় চরম শিথিলতা আনা হয়েছিল। হামাসের একজন মাঠপর্যায়ের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ইব্রাহিম বায়ারিকে হত্যার উদ্দেশ্যে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবনে করা হামলায় আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন, যেখানে তাদের সরে যাওয়ার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি।

অন্য এক জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, হামাস কমান্ডার আলী কাদীকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় একটি পরিবারের সব সদস্য মারা গেলেও সেই কমান্ডার অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এছাড়া ড্রোন দলের সেনা সদস্য ও অন্য গোয়েন্দা কর্মীরা জানান, প্রায় ২০ জন পর্যন্ত বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই ড্রোন আক্রমণের অবাধ অনুমোদন ছিল এবং ২৪ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ডে সেনা নিরাপত্তার অজুহাতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিকে প্রতিনিয়ত উপেক্ষা করা হয়েছে।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক নাদাব ওয়েইম্যান সামরিক বাহিনীর এই আচরণের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, একজন ব্যাটালিয়ন কমান্ডার বা ট্রাক চালককে মারার জন্য শত শত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না এবং ঊর্ধ্বতনদের এই অপরাধের দায় নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। 

এই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার মামলার শুনানি চলছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

ইত্তেফাক/টিএইচ