আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বিশ্ব অর্থনীতির চিত্র অনুযায়ী, জরুরি তেলের মজুত কমে আসছে, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কোনো সংকট দেখা দিলে বিশ্ব অর্থনীতি তার সহনশীলতার সীমায় পৌঁছে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
সংস্থাটির সর্বশেষ বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব যতটা আশঙ্কা করা হয়েছিল, বিশ্ব অর্থনীতি তার চেয়ে ভালোভাবে সামাল দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যেসব জরুরি মজুত ও নীতিগত সুযোগ কাজে লাগানো হয়েছে, সেগুলো এখন অনেকটাই কমে এসেছে।
আইএমএফের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিবর্তে বিকল্প পথে তেল সরবরাহ এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজারে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও নীতিগত প্রস্তুতি পুনর্গঠন না করলে বিশ্ব অর্থনীতি শিগগিরই তার সহনশীলতার সীমা পরীক্ষা করতে বাধ্য হতে পারে। জ্বালানি বাজারে মজুত কমে আসায় নতুন কোনো সংঘাত বা সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব দ্রুত দাম বাড়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গত মার্চে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়াতে ইতিহাসের বৃহত্তম জরুরি তেল মজুত ছাড়ার ঘোষণা দেয়। গত মাসে জ্বালানিমন্ত্রীদের এক বৈঠকের পর এই কার্যক্রম আরও দ্রুত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
