টিকটকে পরিচয়, নিখোঁজের ৬ দিন পর ঢাকায় উদ্ধার ৪ কিশোরী

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫৩

কুষ্টিয়ার মিরপুর থেকে নিখোঁজের ছয় দিন পর ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে চার কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তারা একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুই কিশোরী নিজেদের মধ্যে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

উদ্ধার হওয়া চার কিশোরীর বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। আদালতের নির্দেশে তাদের নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। তাদের খুঁজে না পেয়ে পরদিন ৬ অক্টোবর পরিবারের পক্ষ থেকে মিরপুর থানায় পৃথক তিনটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

জিডির পর কিশোরীদের উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন উপজেলার কাকিলাদহ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ আলী। পরে ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার এক কিশোরীও রয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে মিরপুরের এক কিশোরীর সঙ্গে রূপগঞ্জের ওই কিশোরীর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একইভাবে মিরপুরের আরও দুই কিশোরীর মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হয়।

পুলিশের ভাষ্য, একসঙ্গে থাকা ও পোশাক কারখানায় চাকরি করার কথা বলে রূপগঞ্জের কিশোরী মিরপুরের অপর তিন কিশোরীকে ঢাকায় নিয়ে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় আসে তারা। পরে চারজন সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করে।

পুলিশ আরও জানায়, ওই বাসায় দুই কিশোরী নিজেদের মধ্যে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অপর দুই কিশোরীও তাদের সঙ্গে একই বাসায় থাকছিল।

কাকিলাদহ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই ইউসুফ আলী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাভারের হেমায়েতপুরে কিশোরীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১২ অক্টোবর তাদের মিরপুর থানায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুরের দিকে চার কিশোরীকে আদালতে পাঠানো হয়।

কুষ্টিয়া আদালতের পুলিশ পরিদর্শক জহুরুল আলম জানান, মিরপুর থানা পুলিশ উদ্ধার হওয়া চার কিশোরীকে নারী ও শিশু আদালতে হাজির করে। পরে আদালত তাদের নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, টিকটকের মাধ্যমে কিশোরীদের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। মিরপুরের তিন কিশোরীকে ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের এক কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতের মাধ্যমে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম