বিশ্ববাজারে টানা তিনদিন কমলো সোনার দাম। আজ আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমার পেছনে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) তথ্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। এই তথ্যের ওপর নির্ভর করতে পারে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৪০ ডলার ৩৩ সেন্টে নেমে আসে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের সোনার ফিউচার মূল্য কমেছে ০ দশমিক ৩ শতাংশ। এর ফলে প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৬২ ডলার ৮০ সেন্টে।
এবার প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ১৪০ ডলার ৩৩ সেন্ট হলে এবং ডলারের দর ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে, স্পট মার্কেটে প্রতি ভরি খাঁটি বা ২৪ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়ায় ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা প্রায়। আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের ফিউচার মূল্যে সোনার ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা প্রায়।
মনে রাখতে হবে, এটি আন্তর্জাতিক বাজারদর ও ডলারের আনুমানিক বিনিময়মূল্য ধরে করা হিসাব। বাংলাদেশের বাজারে ভরিপ্রতি সোনার প্রকৃত দাম নির্ধারণে ক্যারেট, আমদানি ব্যয়, মজুরি ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের আগে অনেক বিনিয়োগকারী বড় ধরনের লেনদেন থেকে বিরত রয়েছেন।
Forex.com-এর বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় অনেক ব্যবসায়ী আপাতত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
তার মতে, এই তথ্য প্রকাশের পর ডলারের দামে পরিবর্তন আসতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে সোনাসহ ডলারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সম্পদের বাজারে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সিপিআইয়ের তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হওয়ার কথা উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য। এসব তথ্য থেকে দেশটির মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি এবং অর্থনীতির অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
