দিল্লি বিমানবন্দরে ককরোচ প্রধানকে হেনস্তা

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:১০

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হয়েছেন তরুণদের অনলাইন আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দর থেকে হেঁটে বের হওয়ার সময় এক ব্যক্তিকে তার উদ্দেশে চিৎকার করে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে দেখা গেছে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে দীপকের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘দেশটা কেন ধ্বংস করছেন?’ জবাবে দীপককে হাসিমুখে তার দিকে তাকিয়ে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলে যেতে দেখা যায়।

গত ১০ অক্টোবর দীপকের দাদি মারা যান। মহারাষ্ট্রে নিজের জন্মস্থানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন এই তরুণ আন্দোলনকারী। সেখান থেকে বুধবার বিকেলে দিল্লিতে ফেরেন তিনি।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সিজেপির বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিমান থেকে নামার পরপরই তাকে আটক করে হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ।

দিল্লিতে ফিরে নিজের সহযোগী আন্দোলনকারী আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করেন দীপক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা কি এ দেশে অপরাধ?

দীপক বলেন, ‘তেরঙা উত্তোলন করা কি অপরাধ? আশুতোষ ও সৌরভকে পাঁচ দিনের জন্য কারা হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। কেন? কারণ, তারা যন্তর মন্তরে গিয়ে তেরঙা উত্তোলন করেছিল। ব্রিটিশ শাসনামলেও জনসমক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করায় স্বাধীনতাকামীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হতো।’

গত সোমবার যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের স্থান হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি বাতিলের সরকারি ঘোষণার পরদিন মঙ্গলবার সকালে সেখানে আকস্মিক বিক্ষোভ করেন সিজেপির সদস্যরা। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

দীপকের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসসহ সিজেপির স্বেচ্ছাসেবকেরা যন্তর মন্তরে প্রবেশের জন্য একটি গেট বেয়ে ওপরে উঠছেন। পরে তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্লোগান দেন। এর পরপরই পুলিশ তাদের আটক করে।

যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশ এবং আগের দিন দেওয়া জামিনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এর আগে গত সোমবার এক বছরের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না করার শর্তে দীপক, রাঙ্কা ও দাসকে জামিন দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, গ্রেপ্তারের ঘটনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধীদলীয় নেতা নিন্দা জানিয়েছেন। ভোট চুরির অভিযোগে চলমান প্রতিবাদ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। ওই দিন বিরোধী নেতারা ব্যারিকেড দেওয়া পথ ধরে ‘গণতন্ত্রের পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করেন। একই সঙ্গে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট (এসআইআর) এবং নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ তুলে যৌথ পিটিশন দায়ের করেন তারা।

সূত্র: এনডিটিভি

 
ইত্তেফাক/এসজেএস