ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে আগামীকাল শুক্রবার জাতীয় পতাকা হাতে দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত্ দিপকে। একই সময়ে ভারতে তরুণদের চলমান জেন-জি আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রাণিত বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা।
বুধবার অভিজিত্ দিপকে জানান, শুক্রবার ১৬ অক্টোবর বিকাল ৫টায় জাতীয় পতাকা হাতে সেন্ট্রাল পার্কে জড়ো হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখিয়ে দেব, তেরঙা উড়ানো কোনো অপরাধ নয়।’
এর আগে দিল্লির অনুমোদিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তর বাদ দেওয়ার পর সেখানে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে সিজেপির দুই নেতাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নরেন্দ্র মোদি সরকার দেশে অনানুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থা জারি করছে বলে অভিযোগ করেন অভিজিত্। মহারাষ্ট্রের নাগপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্য দলটির নেতারা কী অপরাধ করেছেন।
পুলিশের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে মঙ্গলবার সকালে ব্যারিকেড ভেঙে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কা। পরে তাদের আটক করে আদালতে তোলা হলে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। এই গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এ কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানো কাপুরুষতার পরিচয়। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও গ্রেফতারের সমালোচনা করে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রাণিত :বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতের ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। বুধবার বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষ্যে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেন, জেন-জি আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। চলমান জেন-জি আন্দোলনের অনুপ্রেরণা সেখান থেকেই এসেছে। বাংলাদেশের তরুণদের পথ দেখানো এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য তিনি শুভেচ্ছা জানান।
নেহা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ভারতেও তরুণরা এখন একই দাবিতে লড়ছেন। ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে দুই দেশের তরুণদের সংগ্রামের মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারতীয় এই ছাত্রনেত্রীর অভিযোগ, বাংলাদেশ ও ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাপ ও হুমকির মুখে রয়েছে। ভারতে শিক্ষাকে বেসরকারীকরণ এবং হিন্দুত্ববাদী আদর্শের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন। বক্তব্যের শেষে নেহা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণরা একসঙ্গে একটি সম্ভাবনাময় দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্ব গড়ে তুলতে পারবেন।
