চীন থেকে সংগৃহীত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা উন্নতমানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে যা সৌদি আরব এবং ইসরায়েলের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অস্ত্র ও সরবরাহ শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিএআর তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে, হুথিদের নির্মিত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত ইরানের নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ‘খাইবার শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। ১ হাজার ২০০ মাইল দূরত্বের এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিজেদের গতিপথ পরিবর্তন করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারদর্শী, যা পুরো সৌদি আরব ও ইসরায়েলকে সরাসরি আক্রমণের আওতায় নিয়ে এসেছে।
গত বছর ইয়েমেন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আটককৃত দুটি চালানের ভিত্তিতে সিএআর তদন্ত পরিচালনা করে জানায় যে জাহাজের নথিপত্রে চীনভিত্তিক এক নির্দিষ্ট এরোস্পেস যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে। জব্দকৃত চালানে ক্ষেপণাস্ত্রের বডি, স্থায়িত্ব রক্ষাকারী পাখনা, সলিড-প্রপেল্যান্ট রকেট মোটরের যন্ত্রাংশ এবং উড্ডয়নকালীন তাপ নিরোধক উপাদানসহ বিভিন্ন ধরনের বিশেষ ধাতব যন্ত্রাংশ ও পরীক্ষা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক সাবেক বিশেষজ্ঞ হেনরি থম্পসনের মতে, হুথিরা বিগত দুই বছর ধরে চীন থেকে সলিড-ফুয়েল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উপাদান আমদানি করছে, যা তাদের ড্রোন বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বড় বিস্ফোরক বহনে সাহায্য করছে।
জাতিসংঘ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরঞ্জামের বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে চীনের একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম সামনে এসেছে, যদিও বেইজিং অস্ত্র বিক্রির ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার দাবি করেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের শেষের দিকে সিএআর বিশেষজ্ঞরা হুথিদের ‘সদর’ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য বিদেশি যন্ত্রাংশ আমদানির প্রমাণ পেয়েছিলেন, যা এখন আরও উন্নত প্রযুক্তির খাইবার শেকান সিরিজের দিকে ধাবিত হচ্ছে। হুথিদের এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলা জোরদারের বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
