নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবমর্যাদা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো। দেশব্যাপী প্রথাগত রূপচর্চা ও সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত ঘোষণা করে এবার নারীদের মেধা, বুদ্ধি ও প্রতিভাকে মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পালস নাইজেরিয়া ২৪৭-এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিজ্ঞানে মেধাবী তরুণী ও নারীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে এবং তাদের পুরস্কৃত করতে চালু করা হয়েছে হাকিলি মুসো নামের এক অনন্য জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা।
জানা যায়, জুনে বুর্কিনা ফাসোর সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবমর্যাদা রক্ষার কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলাকালীন সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করে।
পরবর্তীতে আগস্ট মাসে হাকিলি মুসো নামের একটি প্রতিযোগিতার সূচনা হয়, যার লক্ষ্য ছিল বিজ্ঞানে মেধাবী তরুণী ও নারীদের চিহ্নিত করা এবং পুরস্কৃত করা। এই প্রতিযোগিতায় গণিত, পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়নে প্রতিযোগিতার জন্য ৮৪ জন তরুণী একত্রিত হন, যেখানে সেরাদের পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান করা হয়।
জানা যায়, তাদের প্রত্যেকেই চলতি বছরে বিজ্ঞানে ব্যাকালোরেট (উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের ডিগ্রি) অর্জন করেছিলেন। প্রতিযোগিতার মূল পর্ব শুরুর আগে তারা এক সপ্তাহব্যাপী প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন।
প্রতিটি বিষয়ে সেরা পাঁচজন প্রতিযোগী পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারীরা পান ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঙ্ক, একটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপ এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় পুরস্কার।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম ট্রাওরে বিজয়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদেরকে নিজেদের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখতে, বৈজ্ঞানিক ক্যারিয়ার বেছে নিতে এবং উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে উৎসাহিত করেন।
এই পদক্ষেপ দেশটির সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বজায় রাখা এবং বিজ্ঞানে নারীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার পদ্ধতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করা যে বিজ্ঞানভিত্তিক পেশা কেবল পুরুষদের জন্যই এবং এর মাধ্যমে আরও বেশি নারীকে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রটিতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।
পশ্চিম আফ্রিকান সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি ধ্যানধারণা হলো, বিজ্ঞানভিত্তিক পেশা বুঝি কেবল পুরুষদের জন্যই সংরক্ষিত। এই ধারণা ভুল ও অপ্রাসঙ্গিক প্রমাণ করতেই মূলত হাকিলি মুসো প্রতিযোগিতার আয়োজন।
বুরকিনা ফাসো সরকারের বিশ্বাস, এর মাধ্যমে আরও বিপুল সংখ্যক নারী বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবেন।
