মেজর নিদাল হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে না যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৫৯

মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে শেষ পর্যন্ত সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক ঘোষণায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই পরিকল্পনা বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইতিপূর্বে ট্রাম্প ফোর্ট হুড হামলার মূল অপরাধী নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড অনলাইনে সরাসরি দেখানোর বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তবে এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই দৃশ্য দেখবেন না।

সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বাতিলের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, সমাজের অনেক ভালো ও সৎ মানুষই হয়তো কাউকে সরাসরি মরতে দেখতে চাইবেন না।

তবে নিজের পূর্বের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, আমেরিকা কীভাবে সন্ত্রাসীদের এবং নিদালের মতো জঘন্য অপরাধীদের মোকাবিলা করে, তা বিশ্বকে দেখাতে এটি সরাসরি সম্প্রচার করা যেত। এতে পুরো বিশ্বের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছাত।

সরাসরি লাইভ টেলিকাস্ট বাতিল হলেও নিদাল হাসানের সাজা কার্যকরে কোনো পরিবর্তন আসছে না। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমেই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প।

পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।

সাধারণ জনগণের জন্য লাইভ স্ট্রিমিং বাতিল করা হলেও নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনদের জন্য এটি সরাসরি দেখার সুযোগ থাকছে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা সশরীরে উপস্থিত থেকে সাজা কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়াটি প্রত্যক্ষ করতে পারবেন, কারণ ন্যায়বিচার দেখার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে টেক্সাসের একটি সামরিক ঘাঁটিতে আকস্মিক হামলা চালিয়ে নিরস্ত্র ১৩ জন মার্কিন সেনাকে গুলি করে হত্যা করেন মেজর নিদাল হাসান। ওই হামলায় আরও ৩২ জন সেনা সদস্য গুরুতর আহত হন।

ইত্তেফাক/এএম