বাজারদর

৮০ টাকার নিচে শুধু পেঁপে ও কুমড়া, চড়া সবজির বাজার

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪২

শীতের সবজি বাজারে আসার আগেই রাজধানীর বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের সবজি। পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া অন্য কোনো সবজি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। কোনো কোনো সবজির কেজি ১০০ টাকা, আবার আগাম শিম ১৬০ এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে এখন ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মুরগিটি। অন্যদিকে, ডিমের দাম কিছুটা কমলেও এখনো তুলনামূলক বেশি। চাল ও সয়াবিন তেলের দামও আগের সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের দাম কেজিতে ১০০ টাকা। শীতের আগাম জাতের মুলা ও ঢ্যাঁড়সও বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। তবে আগাম শিমের কেজি ১৬০ টাকা। আর প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।

টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা লিটন মিয়া বলেন, শীতের সবজি বাজারে আসার আগে সাধারণত দাম কিছুটা বেশি থাকে। এর সঙ্গে ট্রাকভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সবজির দামেও প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। দেশি রসুনের কেজি ১৪০ টাকা। আমদানি করা রসুনের দাম আরও বেশি, কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা। মরিচের দাম আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম

রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে।

বিক্রেতারা জানান, গরমের তীব্রতা কিছুটা কমে আসায় মুরগির উৎপাদন বেড়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কিছুটা কমেছে।

কারওয়ান বাজারের একটি দোকানের কর্মী নাহিদ মিয়া বলেন, ‘এখন সরবরাহ ভালো, তাই দাম বাড়েনি।’

এদিকে, দুই সপ্তাহ আগে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। সাদা ডিমের ডজন ১৪০ টাকা। বিক্রেতাদের আশা, শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করলে সবজির দাম আরও কমবে।

চালের দামেও স্বস্তি নেই

চালের বাজারেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। এক থেকে দেড় সপ্তাহ আগে কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছিল চালের দাম। সেই বাড়তি দামেই এখন বিক্রি হচ্ছে চাল।

বাজারে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ৫৫ টাকা। মাঝারি মানের আটাশ ও পাইজাম চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে। সরু চালের কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের নাজিরশাইল চাল মানভেদে ৮০ থেকে ৮৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, এক থেকে দেড় সপ্তাহ আগে নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছিল। এখনো সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল। তাঁদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ট্রাকভাড়া বেড়ে যাওয়ায় চালের দাম কিছুটা বেড়েছে।

অন্যদিকে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। দুই লিটারের বোতলের দাম ৪১০ টাকা।

ইত্তেফাক/এসজে