দুই মাসে এলসি খোলা বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮

ঋণপত্র বা এলসি খোলার ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দেশের আমদানি বাণিজ্যে স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে এলসি খোলার হার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি এলসি নিষ্পত্তিতেও ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষ করে ভোগ্যপণ্য আমদানির এলসি খোলায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলাও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশে মোট ১ হাজার ৩৯৪ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৮২ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে এলসি খোলা বেড়েছে ২১১ কোটি ৮ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৯২ শতাংশ।

অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছিল ১ হাজার ১২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এলসি। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ১২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা ১০ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগের সরকারের সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং ডলার সংকট কিছুটা কমে আসায় আমদানিকারকদের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির সক্ষমতা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক আমদানি কার্যক্রমে।

ভোগ্যপণ্যের এলসি খোলায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

আমদানি বৃদ্ধির ধারায় সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে ভোগ্যপণ্যের এলসি খোলায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এ খাতে ১২৫ কোটি ৯০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ভোগ্যপণ্যের এলসি খোলা বেড়েছে ২৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।

আর এলসি খোলার তুলনায় নিষ্পত্তি বৃদ্ধির হার ছিল কম। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ভোগ্যপণ্যের ১০১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল ৯২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ফলে এ খাতে এলসি নিষ্পত্তি বেড়েছে ৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা ১০ দশমিক ১০ শতাংশ।

শিল্পের কাঁচামালের এলসি খোলায় সামান্য বৃদ্ধি

শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলায় প্রবৃদ্ধি থাকলেও তা খুবই সামান্য। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এ খাতে ৪২১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে খোলা হয়েছিল ৪২০ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এলসি।

এ হিসাবে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে ৯০ লাখ ডলার বা শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ।

তবে এ খাতে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য ৩৮০ কোটি ২০ লাখ ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছিল ৩৮৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এলসি।

ফলে এক বছরের ব্যবধানে শিল্পের কাঁচামালের এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ২ দশমিক ১৯ শতাংশ।

মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি খোলা বেড়েছে ১২.৮৭ শতাংশ

শিল্পায়ন ও উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলায়ও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এ খাতে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে ৪ কোটি ডলার বা ১২ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

তবে এ খাতে এলসি নিষ্পত্তির চিত্র ভিন্ন। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ২৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

সে হিসাবে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে এলসি খোলার পরিমাণ বাড়লেও শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে নিষ্পত্তি কমে যাওয়ার বিষয়টি লক্ষণীয়। অর্থাৎ, নতুন এলসি খোলার প্রবৃদ্ধি সব ধরনের পণ্যের আমদানি নিষ্পত্তিতে একইভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

 
ইত্তেফাক/এসএইচ