বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র চলছে: ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৫১

ভারতের বর্তমান যুব আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিক্ষোভকে ‘বাংলাদেশের আদলে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সাম্প্রতিক বিক্ষোভের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) লক্ষ্ণৌয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলন নির্বাচনী সংস্কার কিংবা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে নয়; বরং তরুণ সমাজকে অরাজক রাজনীতির ঘুঁটি বানিয়ে সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা মাত্র।

বিরোধীদের লক্ষ্য করে রাজনাথ সিং বলেন, ‘দেশের যুবসমাজকে অরাজক রাজনীতির দাবার ঘুঁটি বানানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো করে এখানেও রাজপথের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের চেষ্টা চলছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে দাবি করছে তারা সরকার পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ থেকে দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা নিয়েছে, আবার কেউ রাস্তায় নেমে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটানোর কথা বলছে। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দেশে চরম নৈরাজ্য তৈরি করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কংগ্রেসের কঠোর সমালোচনা করে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দলটির নেতারা ঐতিহ্যবাহী ‘গান্ধী’ নাম ব্যবহারের সব ধরনের নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস এবং তাদের মিত্রদের ব্যবহৃত ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা ‘ক্ষমতা পরিবর্তন’-এর মতো পরিভাষাগুলোই প্রমাণ করে তাদের এই লড়াই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য নয়। তাদের মূল এজেন্ডা হলো সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং দেশে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করা।

এদিকে ভারতের বিজেপিপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলোতে নেহা বোরা নামের এক আন্দোলনকারীর তারিখবিহীন একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর বিতর্ক আরও জোরালো হয়। বিজেপি নেতাদের শেয়ার করা ৩৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নেহা বোরাকে বলতে শোনা যায়, ‘এই দেশের আনাচকানাচে জেন-জিদের যে আন্দোলন আমরা দেখছি, তা প্রথমে বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল। আমাদের পথ দেখানোর জন্য এবং এই দেশের তরুণদের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন।’

ভিডিওতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ চলছে, তা মূলত ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই; যা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনের মতোই একটি গণতান্ত্রিক সংগ্রাম। তবে বিজেপিপন্থী সংবাদমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ওই ভিডিওটির দৃশ্যধারণের সময় ও সত্যতা সম্পর্কে নিরপেক্ষ কোনো তথ্য এখনো মেলেনি।

ইত্তেফাক/এনএন