কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. আবু কাউছার নামে এক যুবদল নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মো. মাছুম মিয়া নামে আরও এক অটোরিকশাচালক।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কাউছার নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সদস্য। তিনি ওই ওয়ার্ডের কাপ্তানবাজার এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি কবির হোসেনের ছোট ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর কাপ্তানবাজার এলাকার কাউছারের বন্ধু মো. শামীম এবং আদর্শ সদর উপজেলার নন্দিরবাজার এলাকার তানজিল ও তৌহিদের মধ্যে ছত্রখিল এলাকার একটি জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ছিল। শুক্রবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে শামীম, তার বন্ধু কাউছার, হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজন গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব জানান, ‘হামলায় জড়িত তৌহিদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় দীর্ঘদিন জেলে ছিল। তারা স্থানীয়ভাবে জমির দালালি করেন। কেউ জমি বিক্রি করতে গেলে তারা চাঁদাবাজি করেন। এ নির্মম ঘটনায় আমরা শুধু একজন যুবদল নেতাকে হারালাম না, আমরা একটি নেতৃত্বকে হারিয়েছি।’
নিহত কাউছারের বন্ধু হেলাল উদ্দিন জানান, ওই জমি নিয়ে চলমান বিরোধ মীমাংসার জন্য আমাদেরকে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়েছিল। আমরা শান্তির লক্ষ্যে সরল বিশ্বাসে সেখানে যাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে তৌহিদের নেতৃত্বে তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা কাউছারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অটোরিকশাচালক মো. মাছুম মিয়াকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, বিকেলে মরদেহ দেখতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পরিবারটি বিএনপির জন্য অত্যন্ত নিবেদিত পরিবার। জমি নিয়ে বিরোধে নিষ্ঠুরভাবে কুপিয়ে হত্যার বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
