জার্মানির কোলন বন বিমানবন্দরে এক বিমানযাত্রীর স্যুটকেসের ভেতর থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৯২টি সাপ ও ৫৫টি টিকটিকি উদ্ধার করেছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। জব্দকৃত সাপগুলোর মধ্যে ৩৭টি বিষধর র্যাটেল স্নেক বা গোখরো প্রজাতির সাপ রয়েছে।
জানা গেছে, ৪৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি পেশায় একজন অগ্নিনির্বাপক। তিনি মেক্সিকো সিটি থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে ট্রানজিট নিয়ে কোলন বন বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। বিমানবন্দরে নামার পর তার গতিবিধি ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে শুল্ক কর্মকর্তারা তাকে তল্লাশির জন্য ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে কোকেনের উপস্থিতি বা মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে ওই যাত্রীর সঙ্গে থাকা স্যুটকেস তল্লাশি করে শুল্ক কর্মকর্তারা অবাক হয়ে যান। প্লাস্টিকের খাবারের পাত্র, শ্যাম্পুর খালি বোতল, প্রসাধনীর কৌটা এবং বিভিন্ন মোজার ভেতর অত্যন্ত সুকৌশলে প্রাণীগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
বিমানবন্দরের শুল্ক কার্যালয়ের মুখপাত্র ইয়েন্স আহলান্ড গণমাধ্যমকে জানান, স্যুটকেসের ভেতরে ৩৭টি জীবিত বিষধর সাপসহ সর্বমোট ৯২টি সাপ এবং বিভিন্ন প্রজাতির ৫৫টি টিকটিকি আনা হচ্ছিল। নিজ পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন অভিনব ও ভয়ংকর বন্যপ্রাণী চোরাচালানের ঘটনা তারা এর আগে কখনো দেখেননি।
দীর্ঘ বিমানযাত্রার সময় ছোট পাত্রে আটকে রাখা এবং পর্যাপ্ত বাতাস বা অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকায় জার্মানি পৌঁছানোর আগেই অথবা উদ্ধারের পরপরই বেশ কয়েকটি প্রাণী মারা যায়। তবে যে প্রাণীগুলো জীবিত ছিল, সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক ওই মেক্সিকান নাগরিক দাবি করেন, পরিচিত এক ব্রাজিলীয় ব্যক্তির বিশেষ অনুরোধে তিনি জীবন্ত প্রাণীগুলো ইউরোপে নিয়ে আসছিলেন।
বন্যপ্রাণী চোরাচালান ও মাদক সেবনের অপরাধে জার্মান সীমান্ত কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তিকে দেশের জন্য সরাসরি ‘নিরাপত্তাঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে। পরবর্তীতে তাকে জার্মানিতে প্রবেশের কোনো অনুমতি না দিয়ে পরবর্তী ইস্তাম্বুলগামী একটি ফ্লাইটে জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
