যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে দেখা গেল মনোমুগ্ধকর ‘স্পেস জেলিফিশ’, কারণ কী

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৫

যুক্তরাষ্ট্রের রাতের আকাশে দেখা মিলেছে জেলিফিশের মতো বিশাল ও উজ্জ্বল এক আলোকচ্ছটার। সূর্যোদয়ের ঠিক আগে আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের হাজারো মানুষের নজর কাড়ে। বিজ্ঞানীদের মতে, রকেট উৎক্ষেপণের পর বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে সৃষ্ট বিশেষ আলোকীয় প্রক্রিয়ার কারণেই এমন দৃশ্য দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ছবিতে আকাশে স্বচ্ছ সামুদ্রিক জেলিফিশের মতো একটি প্রতিকৃতি রয়েছে। প্রতিকৃতিটিতে বিভিন্ন রঙের আভা থাকায় এই দৃশ্য মুগ্ধ করেছে মহাকাশপ্রেমীদের। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণ করা স্পেসএক্সের একটি রকেটের নির্গত গ্যাস ও জলীয় বাষ্প থেকেই এই দৃশ্যের সৃষ্টি।

রকেটের জ্বালানি থেকে নির্গত জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলের অত্যন্ত ঠান্ডা স্তরে গিয়ে বরফের ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। সূর্য তখনো দিগন্তের নিচে থাকলেও তার আলো বায়ুমণ্ডলের ওপরের অংশে পৌঁছে ওই কণাগুলোকে আলোকিত করে। ফলে অন্ধকার আকাশে রঙিন ও উজ্জ্বল জেলিফিশের মতো অবয়ব ফুটে ওঠে। এ ধরনের দৃশ্যকে সাধারণভাবে ‘স্পেস জেলিফিশ’ বলা হয়।

ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে সূর্যোদয়ের ৪৮ মিনিট আগে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। সময় ও বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার কারণে উৎক্ষেপণের পর তৈরি হওয়া আলোকচ্ছটাটি দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায়।

ফ্যালকন ৯ রকেটটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ ও বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম বহন করছিল। এটি নাসার বাণিজ্যিক সরবরাহ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত একটি মিশন।

স্পেসএক্স জানিয়েছে, নাসার জন্য তাদের ৩৫তম বাণিজ্যিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য সরবরাহ মিশনের অংশ হিসেবে ছয় হাজার ৩০০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণাসামগ্রী ও অন্যান্য পণ্য মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হচ্ছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানরত বিজ্ঞানী ও মহাকাশচারীরা বিভিন্ন গবেষণা পরিচালনা করবেন।

রকেট উৎক্ষেপণের ফলে উচ্চ বায়ুমণ্ডলে সৃষ্ট এ ধরনের আলোকীয় ঘটনা বিজ্ঞানীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে গ্যাস ও জলীয় বাষ্পের আচরণ, বরফকণায় সূর্যের আলোর প্রতিফলন এবং রকেট উৎক্ষেপণের পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে আরও ধারণা পাওয়া যায়।

ইত্তেফাক/এসজেএস