হবিগঞ্জের বৃহত্তর সুলতানশী আবাসিক এলাকায় মাদক, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে সুলতানশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি, যুবক ও সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন। মাদক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ আলী। বক্তব্য দেন রেজাক মিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. উজ্জ্বল মিয়া, ফজর আলী, আব্দুল কাইয়ূম, মো. ইদ্রিস মিয়া, মরম আলী, মিলন মিয়া, আলমগীর জুমন, মো. মধু মিয়া, মো. রুবেল মিয়া, রাজু মিয়া, মো. নজরুল মিয়া, শাহ তোফাজ্জল ইসলাম, আবদাল মিয়া, আফজাল মিয়া, মজিদ মিয়া, আসকির মিয়া, শাহীন মিয়া ও মোহন মিয়াসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা ও অনলাইন জুয়া ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, স্থানীয় নেতৃত্ব, যুবসমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তাঁরা।
সভায় রুবেল মিয়া ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া, ক্যাসিনো কার্যক্রম ও মাদকচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বৃহত্তর সুলতানশী আবাসিক এলাকায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা বলেন।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন এলাকার বাসিন্দা শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল। তিনি মাদক ও অনলাইন ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
রুমেল অভিযোগ করেন, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানোর কারণে একটি পক্ষ ভুয়া ফটোকার্ড, গুজব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কনটেন্ট ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে রুবেল মিয়া, তাঁর ভাই সোহাগসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রুমেল বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তিনি এলাকাবাসীর পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। এ বিষয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে তা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মাদক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সংগঠিতভাবে কাজ করার লক্ষ্যে ‘সুলতানশী একতা’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন গঠনের প্রস্তাব সভায় উত্থাপন করা হয়। সংগঠনটির অধীনে ১০১ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
