মিষ্টির আসনে উপনির্বাচনে হলফনামায় সম্পদের বিস্তারিত লাগবে না

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩৬

বিএনপি নেত্রী ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ছেড়ে দেওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সম্পদের বিবরণী দাখিল করে থাকলে প্রার্থীদের হলফনামায় দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে না। তবে আয়কর রিটার্নের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে কমিশন।

ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় প্রার্থী বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত কি না, অতীতে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়ে থাকলে তার বিবরণ ও রায়, ব্যবসা বা পেশার বিবরণ এবং দেশে-বিদেশে আয়ের সম্ভাব্য উৎস উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থী ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদ ও দায়ের বিবরণও দিতে হবে।

তবে কোনো প্রার্থী আয়করদাতা হলে এবং আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সম্পদের বিবরণী দাখিল করে থাকলে হলফনামার সংশ্লিষ্ট অংশে তা উল্লেখ করেই সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া থেকে অব্যাহতি পাবেন। এ ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে দাখিল করা সম্পদের বিবরণীর তথ্য গ্রহণযোগ্য হবে। রিটার্নের অনুলিপি গেজেটেড কর্মকর্তা বা আয়কর আইনজীবীর মাধ্যমে সত্যায়িত করে জমা দিতে হবে।

প্রার্থীর বিরুদ্ধে অতীতে দায়ের করা ফৌজদারি মামলার তথ্যের বিষয়ে ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রার্থীর কাছ থেকে সব তথ্য প্রত্যাশা করা হলেও অনেক পুরোনো মামলার বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে নাও থাকতে পারে। কোনো মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়ে থাকলে বা প্রার্থী খালাস পেয়ে থাকলে বিস্তারিত তথ্য দিতে না পারার কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে না। তবে দণ্ডিত হওয়ার তথ্য গোপনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে মনোনয়নপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী আগে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে নির্বাচনের আগে ভোটারদের কী কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সেগুলোর কতগুলো বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন, তা হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে। আগে সংসদ সদস্য না হয়ে থাকলে এ তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোনো প্রতিশ্রুতি বা অর্জন না থাকলে ‘প্রতিশ্রুতি নেই’ বা ‘অর্জন নেই’ উল্লেখ করলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে।

এ ছাড়া প্রার্থীর একক বা যৌথভাবে নেওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে। একইভাবে তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নেওয়া ঋণ এবং কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিংবা পরিচালক হওয়ার সুবাদে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের তথ্যও দিতে হবে।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৬৬ অনুযায়ী দাখিল করা আয়কর রিটার্নের সত্যায়িত অনুলিপি এবং একই আইনের ধারা ২৬৪ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। পাশাপাশি কমিশনের নির্ধারিত নমুনা অনুযায়ী ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বা কোর্ট ফি দিয়ে হলফনামা প্রস্তুত করে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৬ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৭ অক্টোবর। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৮ অক্টোবর এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৯ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ নভেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২ নভেম্বর। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ নভেম্বর।

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আসার পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। পরে তিনি পদত্যাগ করলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। ওই আসনে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

ইত্তেফাক/এমএএম