আলোচিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যুবদল কর্মী আবু কাউছার হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ‘অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আমাদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, চিকিৎসা–সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য কাগজপত্র—সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল রোববার থেকে পরবর্তী দু–তিন দিনের মধ্যে আমরা বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট বা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করব, ইনশা আল্লাহ।’
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে বাশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় প্রথমে প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজন কিশোর। পরে তদন্তে আরও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে এলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে তুহিনসহ তিন আসামি কুমিল্লার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
