গ্রামাঞ্চলের নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক সংকোচের কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা এগিয়ে না এলে গ্রামের অসহায় নারীদের অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়বেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো কিছুক্ষণ আলোচনা করে চলে যাব, কিন্তু গ্রামে আমাদের মায়েরা কীভাবে বাঁচবে? যদি ডাক্তাররা একটু সচেতন না হন, তবে এই দরিদ্র দেশের মানুষগুলো বিছানায় তিলে তিলে মারা যাবে, তাদের দেখার কেউ থাকবে না।’
স্তন ক্যানসারকে শুধু শারীরিক অসুস্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ রোগ নারীদের মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে দেয়। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে প্রাথমিক শনাক্তকরণ সেবা পৌঁছে দিতে হেলথ ওয়েলবিং সেন্টারের মাধ্যমে কাজ করছে সরকার। তবে অবকাঠামো নির্মাণ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহ ও চিকিৎসক নিয়োগের মতো কার্যক্রম বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের গ্রামাঞ্চলে সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বছরে অন্তত দুই থেকে তিন দিন ছুটি নিয়ে চিকিৎসকদের নিজ নিজ গ্রামে যাওয়া উচিত। সেখানে নারীদের স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ এবং নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করার নিয়ম সম্পর্কে জানাতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, শুধু সভা-সেমিনার আয়োজন কিংবা টেলিভিশনে প্রচারের মাধ্যমে গ্রামের অসচেতন নারীদের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ জন্য সরাসরি মানুষের কাছে যেতে হবে।
বক্তব্যে নিজের পুরোনো অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন জানান, ১৯৯২ সালে সংসদ সদস্য থাকাকালে গ্রামের এক তরুণী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে সংকোচ নিয়ে তার কাছে এসেছিলেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ওই নারী এখনো সুস্থ আছেন বলে জানান মন্ত্রী।
তবে সামাজিক লজ্জা ও সংকোচের কারণে অনেক নারী রোগের কথা গোপন রাখেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এতে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয় না এবং অনেককে শেষ পর্যন্ত বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারাতে হয়।
আধুনিক জীবনযাত্রা ও প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার মতে, কৃত্রিমতানির্ভর জীবনযাপনের প্রবণতার সঙ্গে বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যানসারের প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় আসছে।
নারী চিকিৎসকদের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে তাদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সমিতি গঠন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচার কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
