নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যার ৩ দিনের মাথায় ফের মুখোশধারীর গুলি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫৪

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারীর গুলিতে সুজন পাল (৩৫) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পৌর শহরের মাইলোড়া এলাকায় রামকৃষ্ণ মন্দিরের পাশে এ ঘটনা ঘটে। 

মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আহত সুজন পাল খালিয়াজুরী উপজেলার মেহেন্দিপুর গ্রামের জিতেন্দ্র পালের ছেলে। তিনি মোহনগঞ্জের একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করেন এবং পরিবার নিয়ে স্থানীয় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।

সুজনের স্ত্রী টুম্পা পাল জানান, সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী ব্যক্তি সুজনের কাছে এক প্রবাসীর বাড়ির ঠিকানা জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের একজন পিস্তল বের করলে সুজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে পেছন থেকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পিঠে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘুম থেকে উঠে মাইলড়া রামকৃষ্ণ মন্দিরের প্রায় ১০০ মিটার পূর্বে পুকুরে হাত-মুখ ধুতে যান সুজন। পরে পুকুরঘাট থেকে পাকা সড়কে ওঠার সময় মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারী দুই ব্যক্তি তাঁকে দুবাইপ্রবাসী পলাশ সাহার বাড়ির অবস্থান জানতে চান। এ সময় তাঁদের একজন অস্ত্র বের করলে সুজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাঁকে গুলি করে। পরে তাঁরা দ্রুত মোটরসাইকেলে দেওথান কালীমন্দিরের দিকে পালিয়ে যান।
 
গুলিবিদ্ধ সুজনকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। 
 
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলক ক্লান্তি জানান, সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুজন হাসপাতালে আসেন। তার অবস্থা বিবেচনায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। 
 
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ানুল হাসান জানান, গুলিতে একজন আহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বারহাট্টা সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অপরাধস্থল পর্যবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে কী কারণে সুজনকে গুলি করা হয়েছে এবং হামলাকারীরা কারা, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যক্রম চলছে।
 

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ নিহত হন। এর তিন দিনের মাথায় জেলায় আবারও গুলির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

 

ইত্তেফাক/এনটিএম