শাহজালাল বিমানবন্দরে ৭ দিনে ১১ অভিযান, কোটি টাকার পণ্য জব্দ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:০৯

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাত দিনে ১১টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। এসব অভিযানে প্রায় ৯৮ লাখ ৬১ হাজার টাকার স্বর্ণবার ও স্বর্ণালংকারসহ বিপুল পরিমাণ শুল্কযোগ্য, বাণিজ্যিক ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে যাত্রীদের ব্যাগেজ সুবিধার নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত আনা পণ্যের বিপরীতে ১ কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজার ২৫৬ টাকা শুল্ক-কর আদায় করা হয়েছে।

গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে ৫৮৯ লিটার মদ, ২ হাজার ৯২৩ কার্টন সিগারেট, ৩৫০টি ই-সিগারেট, ২৮৬ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, ৯২টি মোবাইল ফোন ও ৩১৫ কেজি ওষুধ জব্দ করা হয়। বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনা, ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার এবং শুল্ক-কর ফাঁকি প্রতিরোধে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঢাকা কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের ব্যাগেজ পরীক্ষা, পণ্যের ধরন যাচাই এবং শুল্কযোগ্য ও বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত পণ্য শনাক্ত করার মাধ্যমে অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়। এতে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মদ, সিগারেট, ই-সিগারেট, নিষিদ্ধ প্রসাধনী, ওষুধ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে জব্দ করা পণ্যের মধ্যে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৫৮৯ লিটার মদ, ২ হাজার ৯২৩ কার্টন সিগারেট ও ৩৫০টি ই-সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে আমদানি নিষিদ্ধ ২৮৬ কেজি ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম এবং ৩১৫ কেজি ওষুধ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ৯২টি মোবাইল ফোনও জব্দ করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ব্যাগেজ সুবিধার আড়ালে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পণ্য আনার প্রবণতা প্রতিরোধে বিমানবন্দরে নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত পণ্য কিংবা শুল্কযোগ্য সামগ্রী আনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ ও শুল্ক-কর পরিশোধ নিশ্চিত করা সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে আমদানি নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্যের প্রবেশ ঠেকানোও এসব অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

এদিকে, পণ্য জব্দের পাশাপাশি ব্যাগেজ সুবিধার নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত আনা পণ্যের বিপরীতে ১ কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজার ২৫৬ টাকা শুল্ক-কর আদায় করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী, যাত্রীরা নির্দিষ্ট শর্তে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য পণ্য আনতে পারেন। তবে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত শুল্কযোগ্য পণ্য আনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল-আমিন শেখ জানান, গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত ১১টি পৃথক অভিযানে প্রায় ৯৮ লাখ ৬১ হাজার টাকার স্বর্ণবার ও স্বর্ণালংকারসহ বিপুল পরিমাণ শুল্কযোগ্য, বাণিজ্যিক ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণ, মদ, সিগারেট, ই-সিগারেট, নিষিদ্ধ প্রসাধনী, ওষুধ ও মোবাইল ফোন। একই সময়ে যাত্রীদের ব্যাগেজ সুবিধার নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত আনা পণ্যের বিপরীতে ১ কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজার ২৫৬ টাকা শুল্ক-কর আদায় করা হয়েছে।

ঢাকা কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘বিমানবন্দরকেন্দ্রিক তদারকি ও নজরদারি জোরদারের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, আমদানি-সংক্রান্ত বিধিবিধান বাস্তবায়ন এবং সরকারি রাজস্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনা ও শুল্ক-কর ফাঁকি প্রতিরোধে কাস্টমসের নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

ইত্তেফাক/এএইচপি