মোবাইল নম্বর ব্লক করায় দুই বান্ধবীকে ডেকে নিয়ে মারধর

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০৪

বরিশালের মুলাদীতে মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করায় কলেজের দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর ও জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে সহপাঠী ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। 

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে মুলাদী সরকারি কলেজ চত্বরে এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার (১৭ অক্টোবর) মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী। অভিযোগ তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ প্রশাসন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর সঙ্গে তাদের এক সহপাঠীর বন্ধুত্ব ছিল। তারা একসঙ্গে কলেজে যাতায়াত করতেন। কয়েক দিন আগে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে দুই ছাত্রী ওই সহপাঠীর মোবাইল নম্বর ব্লক করে দেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সহপাঠী বৃহস্পতিবার অন্য এক সহপাঠীর মাধ্যমে তাদের শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নেন। পরে ওই সহপাঠীর বড় বোন নাসরিন আক্তারসহ কয়েকজন বহিরাগত তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে দুই ছাত্রী জানান, হামলাকারীরা তাদের চুল ধরে টানাটানি করে। পেটে লাথি মারেন এবং কিল-ঘুসি ও চড়-থাপ্পড় দিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এ সময় জুতাপেটা করার পাশাপাশি পোশাক ধরে টানাহেচরা করে তাদের লাঞ্ছিত করা হয়। তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং কলেজে আসা ও পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কলেজ চত্বরে কয়েকজন তরুণী ও ছাত্রী বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। ভিডিওতে কয়েকজনকে দুই ছাত্রীর চুল ধরে টানতে, চড়-থাপ্পড় মারতে এবং জুতাপেটা করতে দেখা যায়।

ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, তারা কলেজে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

তবে অভিযুক্ত ছাত্রীর বড় বোন নাসরিন আক্তার বহিরাগতদের নিয়ে হামলা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ছোট বোনের নামে বদনাম করায় ওই দুই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে ইউএনও মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘ঘটনাটি কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব কলেজের অধ্যক্ষকে দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যর্থ হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইউএনও ও থানার ওসিকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’

 

ইত্তেফাক/এনএ