ইয়েমেন বিদ্রোহীদের ঠেকাতে ফের একজোট সৌদি-আমিরাত, নতুন মোড় নিচ্ছে ইয়েমেন যুদ্ধ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৭

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে আবারও একসঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দক্ষিণ ইয়েমেনে হুতিবিরোধী সরকারপন্থী বাহিনীগুলোকে নতুন করে অর্থায়ন করবে আমিরাত। বিনিময়ে এসব বাহিনীকে আকাশপথে সুরক্ষা দেবে সৌদি আরব।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে ইয়েমেনের কয়েকটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ ও দক্ষিণাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। তবে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি সেই বিরোধ কমানোর সুযোগ তৈরি করেছে। এর আগে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইয়েমেনে হুতিবিরোধী সামরিক তৎপরতা থেকে সরে দাঁড়ায় আমিরাত। বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশটির সমর্থনপুষ্ট ‘জায়ান্ট ব্রিগেডস’ বাহিনীর অর্থায়নও।

দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেন পৃথক রাষ্ট্র ছিল। গণভোটের দাবি বাস্তবায়িত হলে পুরোনো বিভাজন ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ও স্বাধীনতার পক্ষে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগে ব্যর্থ হয়ে আবুধাবিতে চলে যান। এরপর এসটিসির জন্য পাঠানো অস্ত্রের চালানে হামলা চালায় সৌদি আরব। পরে ইয়েমেন থেকে সব ধরনের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয় আমিরাত।

হুতিরা তাইজ ও মারিব শহর দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবার এডেন বিমানবন্দরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তারা। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের কাছাকাছি পড়ে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগের দিন এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলায় পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হন।

এদিকে রাজধানী সানা থেকে হুতিদের হটাতে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকার। তবে মারিবের কাছে মাজজার ও বাব আল-মানদেব প্রণালি এলাকায় তাদের অগ্রগতি সীমিত।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিসরের সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন ডাকার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। তবে তিনি বলেছেন, মিসর আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে না; সৌদি আরবকে রক্ষায় ব্যবস্থা নেবে।

সৌদি আরব যুক্তরাজ্যের কাছেও সামরিক সহায়তা চেয়েছে। এরই মধ্যে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর একটি আরএএফ ভয়েজার উড়োজাহাজ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ওমান ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের আরও সহায়তা দেওয়ার আইনি দিক নিয়েও আলোচনা চলছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের আপিল আদালত রায় দিয়েছিলেন, ইয়েমেনে সৌদি হামলার সময় অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকার বেআইনি পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল। পরে সরকার অস্ত্র রপ্তানির মূল্যায়নপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনে।

সৌদি আরবের দাবি, তাদের সামরিক পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে। গত ১৫ অক্টোবর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতেও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা স্বীকার করা হয়।

ইয়েমেনে আগস্ট থেকে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে নিহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে জাতিসংঘের হিসাবে, দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এতে দেশটিতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের ওপর চাপ বাড়ছে।

 

ইত্তেফাক/এবিএস