আইডিয়া ফেস্টে চ্যাম্পিয়ন শেকৃবির তিন শিক্ষার্থীর কৃষি উদ্ভাবন

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘আইডিয়া ফেস্ট ২০২৫’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) তিন শিক্ষার্থীর একটি দল। প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষককেন্দ্রিক স্মার্ট কৃষি ইকোসিস্টেমের সমন্বিত মডেল উপস্থাপন করে এ সাফল্য অর্জন করেন তারা।

বিজয়ী দলের প্রস্তাবিত মডেলে কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশের কৃষিকে আরও লাভজনক, টেকসই ও রপ্তানিমুখী করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রতিযোগিতাটির চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রাথমিক পর্যায় থেকে নির্বাচিত ১৮টি দল সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেখান থেকে সাতটি দল চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয়।

চ্যাম্পিয়ন দলটি ‘Farmer-Centered Smart Agricultural Ecosystem for Future Bangladesh’ শীর্ষক একটি সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন মডেল উপস্থাপন করে। এতে কৃষিসেবা, প্রযুক্তি, অর্থায়ন, উৎপাদন ও বাজারব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে দেশের কৃষিকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

মডেলটির মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পর্যায়ে কৃষকের কাছে প্রয়োজনীয় কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, সরবরাহব্যবস্থার ধাপ কমানো, মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নির্ভুলতাভিত্তিক ফসল উৎপাদনব্যবস্থা বা প্রিসিশন এগ্রিকালচার গড়ে তোলা। পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন, মূল্য সংযোজন এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কৃষিকে বিশ্ববাজারমুখী করার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে।

শেকৃবির বিজয়ী দলের তিন সদস্য হলেন কৃষি অনুষদের ৭৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ মোস্তফা মুনিম, কৃষি অর্থনীতি অনুষদের ৭৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মুহাইমিনুল ইসলাম এবং একই অনুষদের ৮০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদ মিয়া। তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে কৃষি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও বাজারব্যবস্থাকে একই কাঠামোর আওতায় আনার ধারণাটি উঠে এসেছে।

বিজয়ী দলের সদস্য মারুফ মোস্তফা মুনিম বলেন, দেশের উন্নয়নে নিজেদের জ্ঞান, মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তা কাজে লাগানোর সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। তারা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তা বাস্তবে প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষির বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে চান।

দলের আরেক সদস্য মো. মুহাইমিনুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, তাদের উদ্ভাবনী মডেলটি সরকারের বিবেচনায় আসবে এবং বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। তার মতে, মডেলটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষিসেবার সমন্বয় বাড়বে, কৃষকের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির পথ সুগম হবে।

দলের তৃতীয় সদস্য মো. রিয়াদ মিয়া জানান, তাদের প্রচেষ্টা শুধু একটি প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তারা বাংলাদেশের কৃষির টেকসই রূপান্তর ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বাস্তব অবদান রাখতে চান। এ অর্জন তাদের আনন্দিত করার পাশাপাশি দেশের কৃষির উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার দায়বদ্ধতাও বাড়িয়েছে।

এদিকে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তরুণদের এ উদ্ভাবনী ভাবনা বাংলাদেশের কৃষিকে আরও আধুনিক, টেকসই ও লাভজনক করে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ইত্তেফাক/এএইচপি