পে-স্কেল চালু হলেও আগের হারেই ভাতা পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০০

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলেও সরকারি চাকরিজীবীরা আপাতত আগের হারেই তাদের ভাতা পাবেন। অর্থাৎ, চলতি বছরের ৩০ জুন যে হারে ভাতা দেওয়া হতো, পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা সেই হারেই ভাতা পেতে থাকবেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। ভাতা আপাতত না বাড়লেও চলতি মাসেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বাড়তি মূল বেতন পেতে শুরু করবেন।

সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বেতন ও ভাতাদি আদেশে নির্ধারিত মূল বেতন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত মূল বেতনের শতকরা হারেই ভাতা প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর এই নতুন বেতন ও ভাতাদি আদেশের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল এবং ভাতা পরে সমন্বয় করার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত করা হয়েছিল।

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের পুরো বর্ধিত বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮—এই দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন–ভাতা দেওয়া হবে।

গত ১ জুলাই থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর প্রথম ধাপ, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপ এবং ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় ধাপে দেওয়া হবে মূল বেতন। ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

অনলাইনে সরকারি কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের (Pay Fixation) কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা ইনফরমেশন সিস্টেম (iBAS++)-এ গিয়ে ৫ অক্টোবর থেকে কর্মচারীরা তথ্য ফরম পূরণ করছেন। মঙ্গলবার এই পে ফিক্সেশনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্র নিশ্চিত করেছে, চলতি মাসের শেষেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতন হাতে পাবেন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ইতোমধ্যে রাখা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম