লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টার পর ১২ জনকে রাতের আঁধারে নিজেদের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এর আগে গত রোববার ভোরে ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় বাহিনীটি। পরে দিবাগত রাতে কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সীমান্তে টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে অবস্থান নিয়েছে বিএসএফও বলে জানিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র।
পুশইনের এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পার হয়েছে। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দিনভর এবং গভীর রাত পর্যন্ত ওই ১২ ভারতীয় নাগরিক সীমান্তের ভারতীয় অংশে অবস্থান করছিলেন। দিবাগত রাতে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বামনদল সীমান্ত এলাকার ৮৩৮ নম্বর মূল পিলারের ১ নম্বর উপপিলারের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার চ্যাংড়াবান্ধার বিএসবাড়ি সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কাঁটাতারের বেড়াসংলগ্ন এলাকার বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। পরে ওই ১২ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এর আগে গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোরে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসবাড়ি ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা ওই ১২ জনকে কাঁটাতারের গেট দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বামনদল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত সীমান্তের দায়িত্বে থাকা বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) বুড়িমারী সদর ক্যাম্পের সদস্যদের খবর দেন।
খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই ১২ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন দুই নারী, আট পুরুষ ও দুই শিশু।
এ বিষয়ে ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (এডি-অবস) কারিমুল ইসলাম ১২ ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা কোনোভাবেই অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানো বা পুশইন মেনে নেব না। উপযুক্ত প্রমাণসহ নিয়মের মধ্যে ফেরত পাঠাতে বিএসএফকে বলা হয়েছে। পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে একাধিকবার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা সাড়া দিচ্ছে না। সীমান্ত সুরক্ষায় আমরা বিজিবি জিরো টলারেন্স।”
