১১ বছরের দুর্গাপূজা, উদ্যোক্তা থেকে আয়োজক সবাই নারী

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৩

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের মাগড়া গ্রামে ১১ বছর ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছেন একদল নারী। ‘উজ্জয়িনী’ নামে এই নারী সংগঠনের সদস্যরা চাঁদা সংগ্রহ, বাজার করা, মণ্ডপ সাজানো থেকে শুরু করে পূজার প্রায় সব কাজ নিজেরাই করেন। শুধু পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন পুরোহিত। সামাজিক ও পারিবারিক বৈষম্যের বাধা ভেঙে নারীদের সক্ষমতা তুলে ধরতেই তাদের এই উদ্যোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে সীমা কর্মকারের উদ্যোগে ‘উজ্জয়িনী’ সংগঠনটি গড়ে ওঠে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শিপ্রা পাল ও বুলবুলি কর্মকার। পরে সংগঠনটি দুর্গাপূজার আয়োজন শুরু করে। ২০১৬ সালে প্রথমবার পূজা আয়োজনের পর এবার ১১তম দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করছেন তারা।

সংগঠনের সম্পাদক সীমা কর্মকার (৪২) বলেন, ২০০২ সালে অনার্সে ভর্তি হতে গিয়ে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সে সময় নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়া, পর্দা ছাড়া চলাফেরা কিংবা স্বামীর চেয়ে বেশি পড়াশোনা করাকে ভালো চোখে দেখা হতো না। পূজার আয়োজনেও পুরুষদের ভূমিকাই ছিল প্রধান। সেই ধারণা ভেঙে নারীরাও যে পূজার আয়োজন করতে পারেন, তা দেখানোর লক্ষ্যেই তাদের উদ্যোগ।

সোমবার দুপুরে কর্মকারপাড়ার অস্থায়ী মণ্ডপে অষ্টমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নারীরা অঞ্জলি দেন। তাঁদের একজনকে ঢাক বাজাতেও দেখা যায়।

টাঙ্গাইল থেকে পূজা দেখতে আসা সুব্রত কুমার তালুকদার বলেন, নারীদের আয়োজনে দুর্গাপূজা হতে দেখেছেন এবারই প্রথম।

স্থানীয় বাসিন্দা তুষার কর্মকার বলেন, এই আয়োজন নারীর ক্ষমতায়ন ও সক্ষমতার পরিচয় তুলে ধরছে।

উজ্জয়িনীর সভাপতি সীমা কর্মকার (৪৮) বলেন, পূজার সব কাজ নারীরাই করেন। শুধু পুরোহিত পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। সংগঠনের সদস্যরা নিজেরাই চাঁদা দিয়ে আয়োজনের খরচ জোগান। শুরুতে অনেকে তাদের উদ্যোগ ভালোভাবে নেননি। তবে এখন স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করেন।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কালিহাতী উপজেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কাশীনাথ মজুমদার বলেন, এ বছর টাঙ্গাইল জেলায় ১ হাজার ৩৫৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এর মধ্যে উজ্জয়িনীর আয়োজনটিই জেলায় নারীদের উদ্যোগে পরিচালিত একমাত্র পূজা। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সংগঠনটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

এ বছর বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা উজ্জয়িনীর সব সদস্যকে শাড়ি উপহার দিয়েছেন।

 
ইত্তেফাক/এসএ