জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের বেতন হচ্ছে না: গোলাম পরওয়ার

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:১৪

জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের বেতন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকারের কোটি কোটি টাকার তহবিল থাকার পরও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই। ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা তাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১২টায় রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘জুলাই আহতদের চিকিৎসার জন্য জামায়াত পাশে ছিল। সারা বিশ্বে জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব চেষ্টায় জুলাই শহীদদের স্মৃতি তুলে ধরতে এবং সংরক্ষণের জন্য তিনটি ভাষায় (বাংলা, ইংরেজি ও আরবি) বই প্রকাশ করেছে।’

জামায়াতে ইসলামী জুলাইকে ধারণ করে না—বিএনপির এমন অভিযোগকে হাস্যকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার জুলাইকে ধারণ না করায় তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নে নানা টালবাহানা করছে। তারা সাংবিধানিক সব প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসাচ্ছে। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সাংবিধানিক পদ, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও যুবদলের লোকদের বসাচ্ছে। জামায়াতসহ ১১ দল জুলাইকে ধারণ করে বলে জনগণের দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছি।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের সাত মাসে সমন্বয়হীনতা, উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে, তা হাস্যকর।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের নোট অব ডিসেন্টের ওপর অনড় থাকতে গিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা ফ্যাসিবাদী। তারা নিজেদের মতো বিশেষ কমিটি করে সংবিধান সংস্কার না করে সংশোধনের পথে যাচ্ছে। সংবিধান সংস্কার না করে যেভাবে রাখা হচ্ছে, তাতে যে প্রধানমন্ত্রীই আসবেন, তিনিই ফ্যাসিবাদী হবেন।’ 

ওসমানী উদ্যানে অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার যোগদানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ না করা অসম্মানজনক। অথচ প্রতিমন্ত্রীদের নাম কার্ডে উল্লেখ করা হয়েছে। রুলস অব প্রেসিডেন্স অনুযায়ী, তিনি একজন পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদার অধিকারী। কিন্তু আমন্ত্রণপত্রে যথাযথ সম্মান না দেওয়ার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে যাননি। ফলে আমরা এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। প্রধানমন্ত্রী যে অসত্য ও হাস্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন, আমরা তার নিন্দা জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সরকারের দুর্নীতি ও দলীয়করণ নিয়ে কথা বলি, তখন আমরা নাকি রাষ্ট্রের বিরোধিতা করি। নিজেদের দলীয়করণ ও ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য জুজুর ভয় দেখিয়ে সব দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা ফ্যাসিস্টদের কখনো আসার সুযোগ করে দিচ্ছি না। বরং সরকার বিরোধী দলের সমস্ত আন্দোলনকে উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে যে অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে, এ পথ দিয়ে সরকার ইচ্ছা করে আওয়ামী লীগকে ঢোকার পথ করে দিচ্ছে।’

সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলের সহযোগিতা লাগবে কেন—এমন প্রশ্ন তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ গণভোটে প্রায় ৭০ ভাগ ভোট দিয়ে সংবিধান সংস্কারের রায় দিয়েছে। তারা সংস্কার না করে জনগণকে বাইপাস করে সংবিধান সংশোধন করতে চায়। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে সরকার অসত্য তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিজম শিখেছে আওয়ামী লীগকে দেখে। কিন্তু রিজভী সাহেব সাত মাসেই তা ভুলে গেছেন। গণভোটের রায় না মানা ফ্যাসিবাদের পথ। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণরায় উপেক্ষা করা ফ্যাসিবাদের পথ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জোট করিনি। যেমন চারদলীয় ও ২০ দলীয় জোট করা হয়েছে বিএনপির সঙ্গে। আমরা জামায়াতের প্রস্তুত করা কেয়ারটেকার সরকারের ফর্মুলা বাস্তবায়নের দাবিতে জাতীয় পার্টি, বাম দলসহ অনেক দলের সঙ্গে আন্দোলন করেছি। বিএনপি গণবিরোধী অবস্থানের কারণে ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। বিএনপির কারণেই আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেছিল। জনগণের দাবি আদায় করতে আমরা একত্রে আন্দোলন করেছি।’

মাদরাসাগুলোর ম্যানেজিং কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকার ফ্যাসিবাদী চিন্তায় দলীয় লোকদের বসাতে কমিটি ভেঙে দিয়েছে। গত ১৭ বছর শেখ হাসিনা এ পথেই হেঁটেছেন, পরে দিল্লি চলে গেছেন বলেও রিজভীকে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

সরকারের বরাদ্দ থেকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘সরকারের কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ থেকে বিরোধী দলের এমপিদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। অনির্বাচিত নারী এমপিদের নির্বাচিত এমপিদের ওপর দারোগাগিরি করতে বসানো হয়েছে। এটি ফ্যাসিবাদের পথ। আমরা অসংলগ্ন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

ইত্তেফাক/আরএইচ