পাঁচ বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালির প্রয়োজন কমে যেতে পারে: এইচএসবিসি প্রধান

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫০

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলো যে বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, তাতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এইচএসবিসি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী জর্জেস এলহেদেরি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুবাইয়ে আয়োজিত এইচএসবিসির ফিউচার ফোরামে তিনি এ কথা বলেন।

এলহেদেরি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই অঞ্চল সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে এবং তারপরও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে। তবে তার জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ লাগবে। অবশ্যই আমরা সংঘাতের সমাধান দেখতে চাই এবং সেই আশা করি। কিন্তু সম্ভবত পাঁচ বছর পর হরমুজ প্রণালি আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ থাকবে না।

সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই নৌপথ মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান রুট। ফলে এখানে যেকোনো বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, দাম ও পরিবহন খরচে প্রভাব পড়ে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো বন্দর পর্যন্ত জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার জন্য পাইপলাইনসহ বিকল্প অবকাঠামো তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এইচএসবিসি প্রধানের মতে, এসব বিনিয়োগ সংঘাতের অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে অঞ্চলটির পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও তুরস্কে অবকাঠামো উন্নয়নের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে এইচএসবিসি। সোমবার প্রকাশিত ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য মোট ৮৭২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব রয়েছে। পরিকল্পনাধীন ও এখনো চূড়ান্ত বরাদ্দ না পাওয়া অবকাঠামো প্রকল্পের বৃহত্তর তালিকায় রয়েছে প্রায় ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা। দুবাইভিত্তিক নির্মাণ খাতের বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান এমইইডির তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিকল্প পাইপলাইন ও বন্দর অবকাঠামো শক্তিশালী হলে হরমুজ প্রণালির ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নির্ভরতা কমতে পারে। তবে প্রণালিটির বর্তমান গুরুত্ব কতটা কমে যাবে, তা নির্ভর করবে বিকল্প ব্যবস্থার সক্ষমতা, বিনিয়োগের গতি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর।

 

 
ইত্তেফাক/এবিএস