অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের ভুলে ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম, আধা ঘণ্টা পেরোনোর আগেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়া—অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের রাতটা শুরু হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। তবে সেই ধাক্কা সামলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে শেষ পর্যন্ত নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। সাত গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারেয়ালকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল।
মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আলেক্সিস মাক আলিস্তের ও রোনাল্দ আরাউহোর গোলে বিরতির আগেই সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে মাক আলিস্তেরের দ্বিতীয় গোল এবং ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎসের জালে বল পাঠানোর মধ্য দিয়ে জয় নিশ্চিত করে লিভারপুল। শেষ দিকে ভিয়ারেয়াল ব্যবধান কমালেও হার এড়াতে পারেনি।
২০২১-২২ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটি। সেবার দুই লেগেই জিতে ফাইনালে উঠেছিল লিভারপুল। এবারও অ্যানফিল্ডে স্মরণীয় কিছু করার সম্ভাবনা জাগিয়েছিল ভিয়ারেয়াল। কিন্তু দুই গোলের লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হয়েছে স্প্যানিশ দলটিকে।
এই জয়ে টানা তিন ম্যাচে জয় নিয়ে ৯ পয়েন্টে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে লিভারপুল। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে রয়েছে পিএসজি।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই নিজেদের ভুলে পিছিয়ে পড়ে লিভারপুল। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের বাইরে থেকে উড়ে আসা ক্রসটি সামলাতে তেমন কোনো বিপদের আশঙ্কা ছিল না। কিন্তু হেডে সতীর্থকে বল দিতে গিয়ে সেটি প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ড মিকাউতাদসের পায়ে তুলে দেন ভার্জিল ফন ডাইক। সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি জর্জিয়ার এই ফরোয়ার্ড। ছয় গজ বক্সের বাইরে ফাঁকায় বল পেয়ে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় স্বাগতিক সমর্থকরা, অ্যানফিল্ডজুড়ে তখন উল্লাসে মেতে ওঠেন সফরকারী সমর্থকেরা।
২৯তম মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ভিয়ারেয়াল। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে ন্যাথান স্যালিবার দুর্দান্ত থ্রু পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার সের্হি কার্দোনা। এরপর নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে লিভারপুলকে আরও চাপে ফেলে দেন তিনি।
দুই গোলের ধাক্কা সামলে ৩৬তম মিনিটে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় লিভারপুল। কস্তাস সিমিকাসের নেওয়া কর্নার থেকে কোনাকুনি হেডে ব্যবধান কমান আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার আলেক্সিস মাক আলিস্তের।
এরপর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে বিরতির আগেই সমতাসূচক গোল পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। বাঁ দিক থেকে ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার রিও নুগোমোহারের বাড়ানো ক্রস দূরের পোস্টে পেয়ে যান বার্সেলোনা থেকে ধারে আসা ডিফেন্ডার রোনাল্দ আরাউহো। হেডে বল জালে পাঠিয়ে দলকে সমতায় ফেরান তিনি।
বিরতির পর মাঠে ফিরেই আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে লিভারপুল। দ্বিতীয়ার্ধের তিন মিনিটের মধ্যেই দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ডান দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করেন নুগোমোহা। প্রথম ছোঁয়াতেই শট নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মাক আলিস্তের, এগিয়ে যায় লিভারপুল।
এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ব্যবধান বাড়ান জার্মান তারকা ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎস। বাঁ দিক দিয়ে সাজানো আক্রমণে কোডি গাকপোর পাস পেয়ে ডি-বক্সের মাঝামাঝি অবস্থান থেকে নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি। তাতে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
তবে ম্যাচের উত্তেজনা তখনো শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট বাকি থাকতে ভিয়ারেয়ালের ফরোয়ার্ড তানিতলুয়া গোল করে ব্যবধান কমান। এতে শেষ মুহূর্তে আবারও নাটকীয়তার আভাস তৈরি হয়। কিন্তু বাকি সময়ে আর কোনো গোল হজম করেনি লিভারপুল। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশ ক্লাবটি।
