জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার ৪ দিনের রিমান্ড

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪৩

জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গুলশান থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই আন্দোলনের সময়ের হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মিয়া দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো এবং ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা (৫৭) কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। অন্য আসামিদের সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন, ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরে বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারামুক্ত হন।

কারামুক্তির এক বছর পর গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় বনানী এলাকা থেকে মানি লন্ডারিংয়ের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২০ অক্টোবর ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।

মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ৩১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।

ইত্তেফাক/এমএএম