বয়স্কভাতার কথা বলে টিপসই, পরে বৃদ্ধ জানলেন জমি বিক্রি হয়ে গেছে

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৭

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও মানসিক সমস্যায় ভোগা এক বৃদ্ধের ১৪ শতক ফসলি জমি নিজের ও দুই ভাইয়ের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সাবেক এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ৮৫ বছর বয়সী আজিজুল হকের কাছ থেকে কাগজে টিপসই নিয়ে পরে তার হাতে ভাতা হিসেবে মাত্র ৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ৪ অক্টোবর উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের বাঘলপুর গ্রামে এই প্রতারণার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে প্রতিকার ও প্রতারণামূলক রেজিস্ট্রি বাতিল চেয়ে উল্লাপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

দলিলের নকল ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাঘলপুর মৌজার ১৪ শতক জমির দাম ৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা দেখিয়ে গত ৪ অক্টোবর রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হয়। জমি গ্রহীতারা হলেন বাঘলপুর গ্রামের মৃত ময়নাল সরকারের তিন ছেলে—সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ, শাহ আলম ও শাহাদাৎ হোসেন। বৃদ্ধ আজিজুলকে অসুস্থ দেখিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বদলে পৌর শহরের একটি বাড়িতে কমিশনের মাধ্যমে গোপনীয়তার সঙ্গে এই দলিল সম্পাদন করা হয়।

ভুক্তভোগী আজিজুল হকের ছেলে ফারুক সরকার জানান, তার বাবা চোখে দেখেন না এবং পূর্বে পাবনা মানসিক হাসপাতালেও চিকিৎসা নিয়েছেন। বয়স্কভাতার সুযোগ নেওয়ার নাম করে প্রতারণার মাধ্যমে এই জমি লিখে নেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

দলিল লেখক আব্দুল মতিন বলেন, আবুল কালাম জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং দাতা ও গ্রহীতাদের ছবি দিয়ে দলিল তৈরি করতে বলেছিলেন। সে অনুযায়ী কমিশনের মাধ্যমে একটি বাড়িতে দলিল সম্পাদন করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, কৌশল ও প্রতারণার মাধ্যমে দাতার কাছ থেকে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে।

জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিযুক্ত দলিল লেখক আব্দুল মতিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়। উল্লাপাড়ার সাব-রেজিস্ট্রার ফারহানা আজিজ জানান, অসুস্থতার কথা বলে আবেদনের মাধ্যমে কমিশনে রেজিস্ট্রি নেওয়া হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং সন্তোষজনক জবাব না দেওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তবে প্রতারণার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মূল অভিযুক্ত ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ। তার দাবি, প্রলোভন দেখিয়ে নয়, বরং বৃদ্ধকে ৭ লাখ টাকা নগদ বুঝিয়ে দিয়ে সরকারি বিধিবিধান মেনেই জমি ক্রয় করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম। তিনি জানান, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএম