কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতের একটি অনিরাপদ পয়েন্টে গোসল করতে নেমে ঢেউ ও স্রোতে ভেসে তিন তরুণ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন এবং একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ির ম্যারিনা রিসোর্ট-সংলগ্ন জাদুঘর এলাকার সৈকতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত তিনজনের মধ্যে দুইজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪) ও সাইবুল হক জিসান (২৩)। তৃতীয়জনের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। নিখোঁজ দুইজনের মধ্যে একজনের নাম এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩) বলে জানা গেলেও অপরজনের পরিচয় অজানা রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকার উত্তরা থেকে গত ১৮ অক্টোবর সাত বন্ধু মিলে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন। দলটির সদস্যরা হলেন সামিন ইসরাত নাফি (২৩), রুহুল আমিন শাফি (২৩), ঐশ্বর্য অক্ষর (২৩), সুফি আমিন নাবিল (২২), আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪), সাইবুল হক জিসান (২৩) ও এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩)। বান্দরবানে দুই দিন কাটিয়ে ২১ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। শহরের কোনো হোটেলে না উঠে দুপুর ১টার দিকে হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন 'সৌরণেষ্ট' রিসোর্টে ওঠেন।
খাওয়া-দাওয়া ও বিশ্রাম শেষে বিকেল ৪টার দিকে সাত বন্ধু জাদুঘর-সংলগ্ন সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। তবে এই স্থানটি গোসলের অনুমোদিত জোন ছিল না। সূত্রমতে, সাতজনের কেউই সাঁতার জানতেন না। পানিতে নামার পর কাছাকাছি আরও তিন-চারজন যুবককে ডুবে যেতে দেখে তারা সাহায্য করতে এগিয়ে যান। এ সময় সবাই স্রোতের কবলে পড়ে ভেসে যেতে থাকেন।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে একজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকিদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ সৈকত থেকে উদ্ধার করা হয়। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নিখোঁজ দুইজনের কোনো সন্ধান মেলেনি।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান জানান, ঢেউ ও স্রোতে ভেসে যাওয়া পর্যটকদের মধ্যে একজনকে স্থানীয়রা জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে এবং বাকি দুইজনের সন্ধানে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিওনের পুলিশ সুপার নিশাদ এঞ্জেলা বলেন, 'সৈকতের ওই পয়েন্টটি গোসলের জন্য পরিচিত নয়। আগে কেউ সেখানে গোসল করেনি। গোসলে নামা তরুণদের কেউ সাঁতার জানতেন না বলে তথ্য পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।' তিনি জানান, নিখোঁজদের খোঁজে একাধিক দল কাজ করছে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে বীচ কর্মী, লাইফগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বিত তল্লাশি চলছে।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, ইনানীর পাটুয়ারটেকে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হিমছড়িতে এই দুর্ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি সৈকতে নির্দিষ্ট জোনের বাইরে গোসল না করতে এবং লাইফগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলতে পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানান।
