গাইবান্ধায় পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকালে আরেক আনসার সদস্যের মৃত্যু

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩০

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তারা মিয়া (৫০) নামের এক আনসার ও ভিডিপি সদস্য মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি দুর্গাপূজায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় উপজেলায় এক নারীসহ দুজন আনসার সদস্যের মৃত্যু হলো।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে দুপুরে সাদুল্লাপুরের নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব কিশামত হামিদ সার্বজনীন দুর্গা মণ্ডপে দায়িত্বে থাকাকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

নিহত তারা মিয়া উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা নছিম উদ্দিনের ছেলে।

মণ্ডপে নিয়োজিত গ্রাম পুলিশ সদস্য চিত্ত রঞ্জন জানান, তারা একসঙ্গে মণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত ছিলেন। বুধবার দুপুরে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে মন্দিরের পাশের শৌচাগারে যাওয়ার সময় তারা মিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্থানীয় এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তিনি দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রেখা রায় জানান, অসুস্থ তারা মিয়াকে প্রথমে অ্যাম্বুলেন্সে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে রংপুরে নেওয়ার পথে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে দ্রুত পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের ধারণা তারা মিয়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

এর আগে গত রোববার (১৮ অক্টোবর) উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের কিশামত বড়বাড়ি সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে দায়িত্ব পালনকালে পারভীন বেগম (৪৬) নামের এক নারী আনসার সদস্য হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পারভীন বেগম স্থানীয় কিশামত বড়বাড়ি গ্রামের মফিজল হকের মেয়ে।

ইত্তেফাক/এনএন