পরিচয় মিলেছে কক্সবাজারে সৈকতে ডুবে যাওয়া ৫ পর্যটকের

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের রামু পেঁচারদ্বীপ পয়েন্টে সমুদ্রে নেমে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজনকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় অপর তিন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপের সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট (জাদুঘর) সংলগ্ন সৈকত এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসিন্দা মুকাররম হোসেনের ছেলে রোহান (২৩), শহীদুল ইসলাম (২৩) এবং চট্টগ্রামের বায়েজিদ শার্সা এলাকার বাসিন্দা মো. আকাশ (২১)।

নিখোঁজ থাকা দুই পর্যটকের পরিচয়ও নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। তারা হলেন চট্টগ্রামের বায়েজিদ শার্সা এলাকার মো. কবিরের ছেলে মো. হারুন (২০) এবং ঢাকার আজিমপুরের বাসিন্দা নাফিসুল হক নিবিড় (২২)।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান জানান, পর্যটকদের দুটি পৃথক দল পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন রেজু খাল পেরিয়ে সমুদ্র ও খালের মোহনায় জেগে ওঠা একটি বালুচরে ঘুরতে যায়। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাগরে পূর্ণ জোয়ার শুরু হলে চরটি ধীরে ধীরে পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু পর্যটকদের কেউই বিষয়টি সময়মতো আঁচ করতে পারেননি। একপর্যায়ে পুরো চরটি সাগরের পানির নিচে চলে গেলে দুই দলের সদস্যরা অথই জলে ভেসে যান।

পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তারা চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক দলের তিন সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। এরপর তল্লাশি চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজনই বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান, একই এলাকার মৃত ছগিরের ছেলে মো. সানী এবং বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর বাসিন্দা মো. হেলালের ছেলে মো. আকাশ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সানী ও মো. আকাশ জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে করে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান এবং পেঁচারদ্বীপে আগে থেকে বুকিং করা একটি রিসোর্টে ওঠেন। এরপর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তারা রেজু খাল পেরিয়ে ওই চরে যান। একই সময়ে ঢাকা থেকে আসা অপর একটি পর্যটক দলও খাল পেরিয়ে ওই একই চরে অবস্থান করছিল। হঠাৎ জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মুহূর্তেই সবাই বিপদের মুখে পড়েন।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া তিনজনের মরদেহ হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। নিখোঁজ দুই পর্যটককে উদ্ধারে রাত পর্যন্ত সাগরে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন