রাজধানীর ভাটারায় পুলিশ সদর দপ্তরের এক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত ডিআইজি) ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাসে ২০ থেকে ২২টি ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। অনলাইন প্ল্যাটফরমে বুকিংয়ের মাধ্যমে এসব আয়োজনে অংশ নিতেন তরুণ-তরুণীরা। গত সোমবার রাতে ঐ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের মধ্যে ৫৮ জন তরুণ ও ২৬ জন তরুণী। আটক তরুণীদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ভাটারা থানার পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এলাকার বাড়িটি পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া। বাড়িটিতে ডিজে পার্টির পাশাপাশি মাদক সেবন ও মাদকের কারবার চলার অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অনলাইন বুকিংয়ে চলত আয়োজন: ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবির জানিয়েছেন, অনলাইন প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে বাড়িটির কক্ষ ভাড়া দেওয়া হতো। নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা এসব পার্টিতে যোগ দিতেন। একটি আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, বাড়িটিতে পাঁচটি কক্ষ ছিল। সেখানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর পাশাপাশি সিসা সেবন করা হতো। অভিযানের সময় বাড়ির আশপাশে প্রায় ২২টি গাড়ি দেখা যায়। পার্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকাররাও অংশ নিতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মদ, ইয়াবা ও কুশ উদ্ধারের দাবি: অভিযানে তিন বোতল মদ, ইয়াবা, কুশ নামের মাদকদ্রব্য এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ডিবি। এছাড়া যৌনস্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট সামগ্রী উদ্ধারের তথ্য রয়েছে।
ডিবির দাবি, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর পর বাড়িটিতে চলা পার্টি বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও ছিল।
তরুণদের এক মাস, তরুণীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড: ডিবির উপকমিশনার ইলিয়াস কবির জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তরুণদের এক মাসের কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরো ১৫ দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তরুণীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরো তিন দিন কারাভোগ করতে হবে বলে জানান তিনি।
বাড়িভাড়া ও আয়ের বিষয়ে প্রশ্ন: বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর এর ব্যবস্থাপনা ও আয়বণ্টন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, একজন হোস্ট ও একজন কো-হোস্টের মাধ্যমে বাড়িটি পরিচালিত হতো। কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকেও আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বক্তব্যও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তার দাবি, বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফরমে ভাড়া দেওয়ার সময় অবৈধ কর্মকাণ্ড না করার শর্ত দেওয়া ছিল। ভাড়াটিয়ারা সেই শর্ত ভঙ্গ করে কোনো অপরাধ করলে তার দায় বাড়ির মালিকের ওপর বর্তানো উচিত কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
