ম্যাপে আটলান্টিকের নাম বদলে নিজের নাম বসাতে গুগল সিইওকে ট্রাম্পের ফোন

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪১

আটলান্টিক মহাসাগরের নাম বদলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা আমেরিকার নামে রাখার একটি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে টেক জায়ান্ট গুগল। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সাউথ ক্যারোলাইনায় এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।

সমাবেশে তিনি জানান, আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রস্তাবটি নিয়ে কাজ করা সম্ভব কি না, তা জানতে তিনি সরাসরি গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইকে ফোন করেছিলেন।

বক্তব্যে ট্রাম্প স্বীকার করেন, তিনি মূলত আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর—এই দুটি মহাসাগরকেই বেশি পছন্দ করেন এবং এদের বাইরে অন্য কোনো জলাশয়ের সঙ্গে তার নাম বা আমেরিকার নাম যুক্ত করার ইচ্ছা তার ছিল না। সে কারণেই তিনি আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবছিলেন।

এর আগে ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে 'গালফ অব মেক্সিকো' বা মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে 'গালফ অব আমেরিকা' রেখেছিলেন। একই সঙ্গে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ চলাকালীন 'লেক অন্টারিও'র নাম বদলে 'লেক আমেরিকা' করার জন্য মার্কিন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়ে প্রশাসনিক আদেশে সই করেছিলেন। গুগল ম্যাপসও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য সেই পরিবর্তনগুলো আংশিকভাবে গ্রহণ করেছিল, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

তবে মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সুন্দর পিচাইয়ের কাছে প্রস্তাব রাখতেই তিনি তা নাকচ করে দেন বলে জানান ট্রাম্প। সুন্দর পিচাইয়ের প্রতিক্রিয়ার বর্ণনা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “তিনি আমাকে সরাসরি জানান— না, স্যার! এবার আমি এটি করতে পারব না। মহাসাগরের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ এটি অনেকগুলো দেশের ভৌগোলিক সীমানাজুড়ে বিস্তৃত। দয়া করে আমাদের এটি করতে বলবেন না।”

গুগল সিইওর এই স্পষ্ট অবস্থানের পর ট্রাম্প জানান, তিনি সম্ভবত এই দাবি থেকে সরে আসছেন এবং আটলান্টিক মহাসাগরের নাম আগের মতোই থাকা উচিত বলে মনে করছেন।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের বিতর্কিত প্রস্তাব মেনে নেওয়ায় মেক্সিকো ও কানাডাসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল গুগল। বর্তমানে গুগল ম্যাপে মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নাম দেখা গেলেও, অনুসন্ধানের ফলাফলে মূল নামের পাশাপাশি বন্ধনীতে সেগুলো প্রদর্শিত হয়। তবে মেক্সিকো ও কানাডার ব্যবহারকারীরা এখনও মানচিত্রে আগের মূল নামগুলোই দেখতে পান। পুরো বিষয়টি নিয়ে দ্য গার্ডিয়ান গুগলের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করেছে।

ইত্তেফাক/এএম