রাওয়ালপিন্ডিতে রানের পাহাড় গড়েও অবিশ্বাস্য পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের বিশ্বরেকর্ড গড়া দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল ইংলিশরা। তবে লঙ্কানদের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সেই ইতিহাস ম্লান হয়ে গেছে। এমন এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দল হেরে যাওয়ায় নিজের ঐতিহাসিক ইনিংসটিকে কার্যত অর্থহীন ও মূল্যহীন হিসেবে দেখছেন ব্রুক।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, ‘ইনিংসটা ভালো ছিল। কিন্তু দিনশেষে তো হেরে যাওয়া দলেই থাকতে হলো! সে কারণে আমার চোখে এই ইনিংসের কোনো মূল্যই নেই।’
ম্যাচটিতে একাধিক অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন ব্রুক। প্রথম ইংলিশ ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডে ফরম্যাটে ডাবল সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন তিনি। একই সঙ্গে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডও নিজের করে নেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণে টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি, ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি এবং টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি হাঁকানো ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হওয়ার বিরল মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
তবে ব্রুকের রেকর্ডগড়া ইনিংসের জবাবে ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে দারুণ লড়াই উপহার দেয় শ্রীলঙ্কা। লঙ্কান ব্যাটার পাভন রত্নায়েকে সেঞ্চুরি হাঁকান এবং আবিষ্কা ফার্নান্দো, দাসুন শানাকা ও জানিথ লিয়ানাগের ঝড়ো অর্ধশতকে ভর করে ৪২৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য পেরিয়ে যায় তারা। এতে এক রুদ্ধশ্বাস ও অপ্রত্যাশিত পরাজয় বরণ করতে হয় ইংল্যান্ডকে।
লঙ্কানদের এই প্রতিরোধ ও পাল্টা আক্রমণের প্রশংসা করে ব্রুক বলেন, ‘অবিশ্বাস্য একটি ক্রিকেট ম্যাচ। দুই দলই অসাধারণ খেলেছে। শ্রীলঙ্কা আমাদের পুরোপুরি হারিয়ে দিয়েছে। ৪০০ রান তুলে ফেলতে তারা অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে।’
পরাজয়ের ধাক্কা সামলে সামনের দিকে নজর দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আবার ড্রয়িং বোর্ডে ফিরতে হবে। ফাইনালে জায়গা পাকা করার সুযোগ আমাদের সামনে আছে। পরের কয়েকটি ম্যাচেই সেটা করতে হবে।’
