চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় চাম্পির তাণ্ডবে তাইওয়ান, জাপান ও ফিলিপাইনসহ পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তাইওয়ানে এই ঝড়ের আঘাতে ভেসে গিয়ে লিউকিউ দ্বীপে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৯৪ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিবিসির লাইভে জানানো হয়েছে, একই সঙ্গে তাইওয়ান ও জাপানে শত শত ফ্লাইট বাতিলসহ সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা থমকে গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাইওয়ানের ২২টি কাউন্টি ও শহরের প্রায় সবকটিতে স্কুল ও অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশটির বিশ্বখ্যাত স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন স্থগিত রাখা হয়েছে। শুক্রবার তাইওয়ানে সব ধরনের ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং ৬৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এছাড়া ট্রেনের সময়সূচি স্থগিত এবং বেশ কিছু মহাসড়ক বন্ধ করে এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জাপানে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) ও জাপান এয়ারলাইন্সসহ চার প্রধান বিমান সংস্থার ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অন্তত ১১ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। ওকিনাওয়া অঞ্চলে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি পরিবার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচি জনগণকে ঝোড়ো হাওয়া, পাহাড় ধস ও বন্যা সম্পর্কে চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলীয় বাতানেস দ্বীপেও ঝড়টি প্রচণ্ড বাতাস ও প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে। চীনের আবহাওয়া সংস্থা চাম্পির সতর্কতায় নীল সংকেত জারি করেছে এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশে কমলা সংকেত দেওয়া হয়েছে। এল নিনোর প্রভাবের কারণে অঞ্চলটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানান।
তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জং-তাই এবং সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান লু কুও-চেন জনগণকে সমুদ্র সৈকত ও পাহাড়ি এলাকা থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেছেন। দেশটির জাতীয় ফায়ার এজেন্সির চিয়াং চি-চিয়াং সতর্ক করে জানিয়েছেন, হুয়ালিয়েনের ওয়ানলি ক্রিক ভূমিধস বাঁধে গচ্ছিত ৫০ লাখ মেট্রিক টন পানির ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
