স্ত্রীর সঙ্গে খুনির ফোনালাপ, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১৯

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে আটক মো. হেলালের সঙ্গে নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরীর ৯ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপ সামনে এসেছে। ওই ফোনালাপে হেলাল দাবি করেন, জাহাঙ্গীরকে হত্যার জন্য নয়, তার হাত কেটে ফেলার উদ্দেশ্যে তাদের ভাড়া করা হয়েছিল। এ জন্য জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই আলমগীর শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগও করেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলমগীর।

প্রতিবেদকের হাতে আসা ফোনালাপের বর্ণনা অনুযায়ী, হেলাল বলেন, আলমগীর শিকদার তাদের ভাড়া করেছিলেন। তাদের বলা হয়েছিল, যেভাবেই হোক জাহাঙ্গীরের একটি হাত কেটে ফেলতে হবে, এতে তিনি মারা গেলেও সমস্যা নেই। হেলাল আরও দাবি করেন, তারা পেশাদার খুনি নন। চুরি, ছিনতাই ও মাদকাসক্তির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টাকার লোভে পড়ে তারা এ কাজে জড়িয়েছিলেন। জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।

ফোনালাপে হেলাল আরও বলেন, তার বন্ধু রিয়াজের সঙ্গে খোকা নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে আলমগীরের যোগাযোগ হয়। কারাগারে খোকা তাদের আলমগীরের নাম বলার জন্য গালাগাল করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। হেলালের ভাষ্য, তাদের নিষেধ করা হয়েছিল আলমগীরের নাম না বলতে। নাম বললে কে তাদের জামিন করাবে, সেই প্রশ্নও করা হয়েছিল।

হেলাল দাবি করেন, তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছেন, এ কাজ আলমগীর করিয়েছেন। তার অভিযোগ, আলমগীরের নাম বলার কারণে তাদের মারধর করা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে খোকাকে রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে বলেও ফোনালাপে উল্লেখ করেন তিনি।

নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী বলেন, এলাকার একজনের মাধ্যমে তিনি খবর পান, কারাগার থেকে একজন তার সঙ্গে কথা বলতে চান। ওই ব্যক্তি ভাড়াটে খুনি হেলাল বলে তাকে জানানো হয়। এরপর ফোনে কথা হলে হেলাল কীভাবে এসেছেন, কে তাকে এনেছেন এবং কারা টাকা দিয়েছেন, সেসব বিষয়ে কথা বলেন বলে দাবি করেন তাসলিমা। তার ভাষ্য, প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন আগে হেলাল কারাগার থেকে ফোন করেছিলেন।

তাসলিমা বলেন, জাহাঙ্গীর হত্যায় আলমগীর জড়িত বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই সন্দেহ করতেন। তারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চান। আলমগীর শিকদারের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ নেই বলেও জানান তিনি। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে শনিবার মিঠামইনবাসী বিক্ষোভ মিছিল করবেন বলেও জানান তাসলিমা।

বিভিন্ন সূত্র ও আলমগীর শিকদারের ফেসবুক আইডির তথ্য অনুযায়ী, তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। আলমগীর বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তার প্রশ্ন, হেলাল যদি তার নাম বলে থাকেন, তাহলে এত দিন তাকে আইনের আওতায় আনা হয়নি কেন।

আলমগীর আরও বলেন, হেলাল তার নাম বলেননি, খোকার নাম বলেছেন। খোকা তার নাম বলুক যে তিনি জড়িত। নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে আলমগীর অভিযোগ করেন, তিনি তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করবেন। দেশে ফিরে তিনিও সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানান তিনি।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অষ্টগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, অন্য একজনের মাধ্যমে তিনি ফোনালাপের বিষয়ে শুনেছেন। তবে এখনো রেকর্ডটি শোনেননি। এ বিষয়ে তিনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন।

গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে মিঠামইনে নিজ বাড়ির সামনে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৮ জুলাই তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় মামলা করেন। জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ইত্তেফাক/এসএ