দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পেশাদার ফুটবলে ফিরছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদিনহো গাউচো। ৪৬ বছর বয়সী এই সাবেক তারকা আগামী ১৫ নভেম্বর ইতালির তৃতীয় স্তরের ফুটবল প্রতিযোগিতা সিরি-সিতে র্যাভেনার হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলবেন। গত জুনে ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি করে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন ড্রিবলিংয়ের জাদুকর হিসেবে পরিচিত এই ব্রাজিলিয়ান।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর)) নতুন ক্লাবের হয়ে মাঠে ফেরার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানান রোনালদিনহো। আগামী ১৫ নভেম্বর র্যাভেনা ও ফরলি এফসির মধ্যকার ডার্বি ম্যাচ দিয়ে তার প্রত্যাবর্তন হতে যাচ্ছে। এর আগে ২০১৫ সালে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের হয়ে সর্বশেষ পেশাদার ফুটবল খেলেছিলেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।
রোনালদিনহোর প্রত্যাবর্তন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে ইতালির ক্লাব র্যাভেনা। এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানায়, তার মাঠে ফেরার ঘটনাটি বিশ্ব ফুটবলের মনোযোগ কেড়ে নেবে। দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের মুগ্ধ করে রাখা তার নৈপুণ্য, হাসি ও প্রতিভাকে আবারও মাঠে দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একসময় যা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল, সেই প্রত্যাবর্তন এখন বাস্তব হতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে ক্লাবটি।
ইতালির এমিলিয়া-রোমাগনা অঞ্চলের ছোট শহর র্যাভেনার ক্লাবটি সিরি-সিতে খেলে। তাদের স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার। আন্তর্জাতিক ফুটবলে খুব বেশি পরিচিতি না থাকলেও রোনালদিনহোর যোগদানের খবরে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে ক্লাবটি।
২০২৪ সালে র্যাভেনার মালিকানা নেন ইগ্নাজিও চিপ্রিয়ানি। ক্লাবটিকে ইতালির শীর্ষ লিগ সিরি-আতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে তার। চিপ্রিয়ানির কাছে রোনালদিনহো কেবল একজন ফুটবলার নন, বরং শৈশবের অনুপ্রেরণাও। তার বিশ্বাস, ব্রাজিলিয়ান তারকার উপস্থিতি ক্লাবটির পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
র্যাভেনায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদিনহো জানিয়েছিলেন, চিপ্রিয়ানি পরিবার ও তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থেকেই এই সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন যাত্রা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে তিনি আশা করেছিলেন, ক্লাবের সঙ্গে সবকিছু ভালোভাবে এগোবে। ক্লাবের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে তাদের ভাবনাতেও মিল রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইতালির ফুটবলে রোনালদিনহোর আগে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি এসি মিলানের হয়ে খেলেছেন। এর আগে ও পরে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ছিল বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইর মতো বড় ক্লাব। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য রোনালদিনহো ২০০৫ সালে জিতেছিলেন ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর।
